হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়। সাহাবিদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর মাথা ও দাড়িতে খুব অল্প কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল। সেই শুভ্র চুলও ছিল অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরপুর।
আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) বর্ণনা করেন, একবার তিনি নবীজিকে সবুজ রঙের দুটি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখেন। তখন তাঁর সাদা চুলগুলো দূর থেকে লালচে আভা ছড়াচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। (মুসনাদে আহমাদ)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর সিঁথির কাছে মাত্র কয়েকটি সাদা চুল ছিল। তিনি সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে সেগুলো প্রায় দেখা যেত না। (মুসনাদে আহমাদ)
একদিন হজরত আবু বকর (রা.) ও কয়েকজন সাহাবি নবীজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে।’ তখন তিনি এমন একটি কারণ উল্লেখ করেন, যা সাহাবিদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, নাবা এবং তাকভীর আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম)
আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘সুরা হুদ এবং এ ধরনের সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’
ইসলামি গবেষকদের মতে, এসব সুরায় কিয়ামতের ভয়াবহতা, আল্লাহর জবাবদিহি, জাহান্নামের শাস্তি এবং পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিগুলোর পরিণতির বর্ণনা রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর মমত্ববোধ, আল্লাহভীতি ও নবুয়তের গুরুদায়িত্বের কারণে এসব আয়াত তাঁর হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
তাই মুহাম্মদ (সা.)-এর চুলের শুভ্রতা শুধু বয়সের ছাপ ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহভীতি, দায়িত্ববোধ এবং মানবজাতির হেদায়েতের জন্য তাঁর গভীর চিন্তা ও আত্মনিবেদনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
সময়ের আলো/এসএকে