যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ অনুযায়ী, ইরানের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক উপাদান দেশটির বাইরে পাঠানো হবে না। বরং ইরানের ভূখণ্ডেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেটিকে লঘুকরণ বা ডাউন-ব্লেন্ডিং (মান কমিয়ে নিষ্ক্রিয়) করা হবে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া চুক্তির মূল অনুচ্ছেদগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলোতে স্পষ্ট করা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই একটি সুনির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি বা মেকানিজম তৈরি করা হবে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ অর্থ ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে। ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তহবিল ও সম্পদ ছাড়ের জন্য ইরানকে আগাম কোনো কঠিন বা বড় ধরনের শর্ত পূরণ করতে হবে না।
চুক্তির ৮ থেকে ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ধারাগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির ওপর সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী দিনগুলোতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ চূড়ান্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে। এছাড়া মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) বিভাগ অবিলম্বে ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও এর উপজাত রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে বিশেষ ছাড় বা ওয়েভার জারি করবে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে এই চুক্তির কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
চুক্তির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক সমঝোতা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পরবর্তীতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে আইনি স্বীকৃতি পাবে।
সময়ের আলো/কহু