বিশ্বকাপে কাল ডিয়ার কঙ্গোর মুখোমুখি হয়েছিল নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবার খেলতে নামা রোনালদোর দল পর্তুগাল। তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও খেলায় আগের মতো জোশ আছে কি না এমন প্রশ্ন বিশ্বকাপের আগে থেকেই শুরু হয়।
পুরোটা সময়ে তিনি মাঠে ছিলেন, ২৬ বার বল স্পর্শ করলেও শট নিয়েছেন মাত্র তিনটি, তবে কোন গোলের মুখ দেখাতে পারেননি দলকে। দলও ১-১ সমতায় হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এরপর টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালোই হয়েছে।
অনেকেরই প্রশ্ন, যে খেলোয়াড় ম্যাচের শুরু থেকে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, তাকে দ্বিতীয়ার্ধে কেন বদলি করলেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্তিনেজ বলেছেন, গোল দরকার এমন ম্যাচে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো যুক্তি তিনি দেখেননি।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গোল না পাওয়ায় রোনালদোর বড় টুর্নামেন্টে গোলখরাও আরও দীর্ঘ হয়েছে। বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ ধরে তিনি গোলহীন।
ওপেন প্লে থেকে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তার সর্বশেষ গোলটি এসেছিল ২০২১ সালের ১৯ জুন। তবে রোনালদোর পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সামগ্রিক খেলা নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন মার্তিনেজ। রোনালদো কোনো প্রভাব ফেলতে পারছেন না বোঝার পরও তাকে পুরো সময় খেলানো হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, যে ম্যাচে আপনার গোল দরকার, সেখানে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।
মার্তিনেজের মতে, পর্তুগাল ম্যাচের শুরুটা দারুণ করলেও এগিয়ে যাওয়ার পরই ছন্দ হারায় পর্তুগাল। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু এরপর পুরো ম্যাচে দলটি মাত্র ছয়টি শট নিতে পারে।
এদিকে মার্তিনেজ মনে করেন, গোল করার পর দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে বলের দখল ধরে রাখার প্রবণতাই কাল হয়েছে তাদের, সাধারণত গোল করার পর সেই আবেগ দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং দ্বিতীয় গোলের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। আমরা ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম। শুধু বলের দখল ধরে রাখতে চেয়েছি।
তবে পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ এখনই বিশ্বকাপের পরের পথচলা নিয়ে আতঙ্কিত নন। বিশ্বকাপের ইতিহাস টেনে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুরুটা খারাপ হলেও শেষটা সাফল্যময় হতে পারে, বিশ্বকাপে এমন ঘটনা ঘটে।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল। ২০১০ সালে স্পেন সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তখন তাদের পারফরম্যান্সও ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নের মতো মনে হয়নি।
‘কে’ গ্রুপে পর্তুগালের পরের ম্যাচ ২৩ জুন উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। এদিকে স্বাগতিক উজবেকরা নিজেদের প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে।
/ইউএমএইচ