গরম-ঠান্ডায় বাড়ছে মুরগির মৃত্যু, বিপাকে ক্ষুদ্র খামারিরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কুড়িগ্রামের আবহাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে অস্বাভাবিকতা। কখনও তীব্র তাপপ্রবাহ, আবার হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে

2026-06-18T15:08:49+00:00
2026-06-18T15:08:49+00:00
 
  শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬,
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
গরম-ঠান্ডায় বাড়ছে মুরগির মৃত্যু, বিপাকে ক্ষুদ্র খামারিরা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৩:০৮ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কুড়িগ্রামের আবহাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে অস্বাভাবিকতা। কখনও তীব্র তাপপ্রবাহ, আবার হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে শীতল পরিবেশ। আবহাওয়ার এমন আকস্মিক পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জেলার পোল্ট্রি খাতে। বিভিন্ন এলাকায় মুরগির খামারে রোগবালাই বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ক্ষুদ্র খামারি মো. ইন্তাজ খান জানান, কয়েকদিনের তীব্র গরমে তার খামারের মুরগিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে খামারে আর্দ্রতা বেড়ে গেলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি মুরগি মারা যায়। চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

একই উপজেলার আরেক খামারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রথমে ২০টি মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়ায় সঠিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তার ৮টি মুরগি মারা গেছে। এবার প্রায় ১০০টি বাচ্চা তোলার পরিকল্পনা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে খামার পরিচালনা করতে পারলে মুরগির মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এজন্য খামারের উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাতের বাচ্চা নির্বাচন, নিয়মিত টিকাদান এবং সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, খামার এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যেখানে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডার প্রভাব তুলনামূলক কম। পাশাপাশি জীবাণুর সংক্রমণ রোধে বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অতিরিক্ত গরমের সময় পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, খামারের চাল বা আশপাশে পানি স্প্রে করা এবং ঠান্ডার সময় বৈদ্যুতিক বাতি বা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমান আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম জাতের মুরগি নির্বাচন করলে ঝুঁকি কিছুটা কমে। এছাড়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাণীক্ষেত, গামবোরো ও পক্সের টিকা প্রদান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মৃত্যুহার কমে আসে।


খাদ্য ব্যবস্থাপনাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বয়সভেদে নির্ধারিত পরিমাণ খাবার সরবরাহ এবং ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি বাজারজাত করার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মুরগির জন্য ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সবচেয়ে উপযোগী। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রেস দেখা দেয়, আর দ্রুত তাপমাত্রা কমে গেলে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে কুড়িগ্রামে দিনের তীব্র গরম এবং বৃষ্টির পর রাতের তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার কারণে মুরগি সহজেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র খামারিদের দক্ষ করে তুলতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বিনামূল্যে ২ থেকে ৭ দিনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে লাইসেন্স সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে। কোনো খামারির অধিকাংশ মুরগি রোগ বা দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আবেদন করে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   গরম  ঠান্ডা  মুরগি  মৃত্যু  বিপাকে খামারিরা  কুড়িগ্রাম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: