সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত স্বামী শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) মরদেহ ১৯ দিন পর দেশে ফিরেছে। স্বামীর মরদেহ দেখে বেহুশ হয়ে যান স্ত্রী রশিদা খাতুন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ হবে সেই চিন্তায় তিনি এখন দিশেহারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজশাহীর বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ভোরে পৌঁছায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামল উদ্দিন মাঝির মরদেহ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে কফিন খোলা হলে পোড়া মুখ দেখে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্বজনরা জানান, তিন মেয়ের বাবা শ্যামল সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে আট বছর আগে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
শ্যামলের বড় বোন হালিমা ভাইয়ের কফিন ধরে কান্না করছিলেন। ভাইয়ের রেখে যাওয়া সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং তার ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ হবে, তা নিয়ে তিনিও উদ্বিগ্ন।
শুক্রবার সকালে শ্যামলের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পরে সংবাদকর্মীরা গিয়ে দেখে পুরো এলাকা স্তব্ধ শুধু শ্যামলের বাড়িতে কান্নার রোল, ঘরের ভেতরে কফিন রাখা হয়েছে। আশপাশের লোকজন সেটি ঘিরে আছেন। পরে শ্যামল উদ্দিন মাঝির জানাজা শেষে বেলা পৌনে ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইদুজ্জামান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে শ্যামলের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করায় তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে তিনি পরিবারের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে আত্রাইয়ের সাতজন ছাড়াও নাটোরের নলডাঙ্গার রবিউল ইসলাম ও রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিনের মরদেহ ছিল।
৯ আগস্ট রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করে। তবে এখনও সাতজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। তাদের মরদেহ দ্রুত শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
সময়ের আলো/এনএন