কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তে শূন্যরেখায় টানা চার দিন অবস্থানরত দুই শিশুসন্তানসহ দম্পতিকে সরানো হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই যুবক এখনো ওই স্থানেই অবস্থান করছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুইজন এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
তবে কীভাবে বা কোনো প্রক্রিয়ায় তাদের সরানো হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কোথায় আছেন— এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গ্রাম পুলিশ জহুরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর থেকে একটি গাড়ি আসে। ওই গাড়িতে করে শূন্যরেখা থেকে দম্পতি ও তাদের শিশুদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। প্রাইভেট গাড়ির পাশাপাশি বিজিবির গাড়িও ছিল। তবে তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে তা জানা যায়নি।
তিনি আরও জানান, শূন্যরেখায় এখনো দুই যুবক অবস্থান করছেন এবং ওই এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের টহল রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ওদের থাকার জন্য আমি মশারি দিয়েছিলাম। সকালে গিয়ে দেখি দম্পতি ও শিশুরা নেই, শুধু দুজন আছে। তারা কোথায় গেছে জানি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ওই দম্পতিকে রৌমারী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে তাদের পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এর আগে, গত রোববার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা তখন সীমান্তের শূন্যরেখার কাছেই অবস্থান করতে বাধ্য হন।
পরবর্তী সময়ে টানা চার দিন তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করেন। এ সময় তাদের ঘিরে রাখেন বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা।
ভুক্তভোগী সুমি আক্তার ও বেলাল হোসেন দাবি করেন, তারা ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান।
পরে গোয়াহাটি পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
/ইউএমএইচ