পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই তাকে বিষাক্ত গ্যাসে পূর্ণ ট্যাংকের ভেতরে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক ইউপি সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়িতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুরাম চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর নিজধাম গ্রামের মৃত আর্যমোহন দেবসিংহের ছেলে।
একই ঘটনায় গৌতম চন্দ্র রায় নামে আরও এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় শালডাঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন ও উত্তম রায়সহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকের ভেতরের সাটারিং বা সেন্টারিং খোলার জন্য বাবুরামকে ডেকে নেন। দীর্ঘদিন ঢাকনা দিয়ে বন্ধ থাকায় ট্যাংকের ভেতরে মিথেনসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা সতর্কতা ছাড়াই বাবুরামকে ট্যাংকের ভেতরে নামানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধারে নামা আরও দুই শ্রমিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরেই বাবুরামের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর মরদেহ উদ্ধার করে তড়িঘড়ি করে একটি অটোভ্যানে করে বাড়ির উঠানে রেখে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যান। তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রধান আসামি ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। বাড়ির মালিক নবির হোসেন বলেন, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং শ্রমিকরা তাদের হেড মিস্ত্রির নির্দেশেই ট্যাংকে নেমেছিলেন।
বেঁচে যাওয়া শ্রমিক ভাগ্য রায় বলেন, এর আগে তারা কখনো সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিং খোলার কাজ করেননি। হেড মিস্ত্রির নির্দেশেই তারা ট্যাংকে নেমেছিলেন।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি মুসা মিয়া বলেন, অবহেলার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এসএকে