সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধির কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহসহ সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যের পর থেকে বন্দরের পণ্য পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে বিপাকে পড়েছে আমদানিকারকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হিলি স্থলবন্দরে ট্রাক চালক, ব্যবসায়ীসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকের সাথে কথা বলে বন্দরের পণ্য পরিবহণ খরচ বৃদ্ধিসহ সার্বিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে।
হিলি বন্দর থেকে ভারতীয় পণ্য দেশীয় ট্রাকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক আরিফ হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গন্তব্য ও দূরত্ব ভেদে ট্রাক প্রতি ভাড়া ৪,০০০ থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
আরিফ হোসেন আরও বলেন, পূর্বে যে রুটে (ঢাকা) ট্রাক ভাড়া ছিল ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা, তা বর্তমানে বেড়ে ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ টাকা হয়েছে। এখন কেমনে কি করি? দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আবার গাড়ি না চালালে পরিবারের লোকজন কীভাবে চলবে। ঢাকার উদ্দেশ্য একটা গাড়ি রওনা হলে সর্বনিম্ন ১০০ লিটার তেল লাগবে। সেই তুলনায় ভাড়া তো বৃদ্ধি পায়নি। গাড়ি নিয়ে ঢাকা গিয়ে মালিককে কি দিব আমি এবং আমার হেল্পার বেতন কি নিব? তবে সবকিছুর সঠিক সমাধান চাই।
বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলেন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মূলত গম, ভুট্টা, ভুসি, জিরা ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে আমদানিকৃত পণ্য দেশের অভ্যন্তরে (যেমন ঢাকা বা চট্টগ্রামে)পাঠাতে আমদানিকারকেরা বড় ধরনের লোকসান ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এতে সরকারের যেমন বড় অংকের রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনি বন্দরের ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ে। তাই যতদ্রুত সম্ভব এবিষয়ে সরকারের কাছে সঠিক এবং বাস্তবমুখী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও বলেন পণ্য পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দরের বেচাকেনা হ্রাস ও ভারতীয় ট্রাকের জট লেগেছে বেসরকারি অপারেটর হিলি পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড- এর ভিতরে। দূরপাল্লার ট্রাকের সংকট এবং ভাড়া নিয়ে পরিবহন মালিকদের সাথে দর কষাকষির ফলে বন্দরে পণ্য বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পণ্য খালাস ধীরগতিতে হওয়ায় বন্দরে ও ওপারে শত শত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে বলে জানান তারা।
ব্যবসায়ীদের অনেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকদের সাথে আগে থেকেই বার্ষিক বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পণ্য সরবরাহের চুক্তি থাকায়, তারা এখন বাড়তি ভাড়ার কারণে লোকসান দিয়ে মালামাল পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পরিবহন খরচ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমদানিকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দেশের বাজারে আরও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষ এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বিভিন্ন নিয়ে ভারতীয় প্রায় দুশত পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। সপ্তাহের প্রথম দিন ২৬ সেপ্টেম্বর ১০৯ টি, রোববার ৪৬টি ও সোমবার ৪১টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে।
সময়ের আলো/এনএন