চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে’ (ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজ কাটাকুটির সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে কাজ করতে থাকা একাধিক শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষু হয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থল থেকে অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রথমে সাতজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন— হাবিবুর রহমান , পলাশ দাশ, সানি দাশ, মনসুর আলী, নাসির উদ্দিন, মো. খোকন এবং মো. রানা।
ঘটনার পর চমেক হাসপাতালে মুমূর্ষু শ্রমিক ও মৃতদের স্বজনদের আনা হলে শোকার্তদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক অগ্রগতি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দিকনির্দেশনা দেন।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সেখানে স্বজনদের সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এবং এ সহায়তার অর্থ প্রদান করবে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)।
শিপইয়ার্ডটিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল কি না এবং 'গ্যাস ফ্রি' সনদ ও শ্রমিক সুরক্ষা বিধান মেনে কাজ চলছিল কি না— তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে যৌথ দল কাজ শুরু করেছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, উদ্ধার ও খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর টিম ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই বোঝা যাবে জাহাজ কাটার সময় ইয়ার্ডটিতে নিরাপত্তা বিধিমালা সঠিকভাবে মানা হয়েছিল কি না।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইয়ার্ডের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি ও গাফিলতির মাত্রা পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।
সময়ের আলো/আতা