আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। এটি ছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক, পাশাপাশি চলতি আসরেরও প্রথম হ্যাটট্রিক। তবে অনবদ্য এই পারফরম্যান্সের পাশাপাশি একটি বিতর্কিত ট্যাকল নিয়েও ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দির ওপর একটি চ্যালেঞ্জ করেন মেসি। সে সময় বলের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মান্দি। রিপ্লেতে দেখা যায়, পেছন দিক থেকে ট্যাকল করতে গিয়ে মেসির বুট আলজেরিয়ান ডিফেন্ডারের ডান পায়ের কাফ ও অ্যাকিলিস টেন্ডনের অংশে আঘাত করে। এতে মাঠে পড়ে যান মান্দি।
তবে ঘটনাটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেননি ম্যাচের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক। তিনি কোনো কার্ড দেখাননি। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) থেকেও ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তাকে মনিটরে যেতে বলা হয়নি।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মান্দি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না।’
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষণমূলক অনুষ্ঠানে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। ইএসপিএনের বিশ্লেষক ও সাবেক ভেনিজুয়েলান ফুটবলার আলেহান্দ্রো মোরেনোর মতে, এটি সরাসরি লাল কার্ডের যোগ্য অপরাধ ছিল। তার ভাষ্য, পেছন দিক থেকে এমন বিপজ্জনক ট্যাকল প্রতিপক্ষের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে এবং ঘটনাটি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল।
একই আলোচনায় সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার নেদুম ওনুওহাও লাল কার্ডের পক্ষে মত দেন। তার দাবি, ঘটনার পর মেসির প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে তিনি চ্যালেঞ্জটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ওনুওহার মতে, ভিএআর কর্তৃপক্ষের রেফারিকে পুনরায় ঘটনাটি দেখতে না ডাকা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে ম্যাচ চলাকালে রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তারা এটিকে গুরুতর ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেননি। ফলে কোনো শাস্তি ছাড়াই খেলা চালিয়ে যান মেসি।
তবু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু মেসির তিন গোল নয়, তার সেই বিতর্কিত ট্যাকলও। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
অন্যদিকে অনেকের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন ঘটনায় অন্তত ভিএআর পর্যালোচনা হওয়া উচিত ছিল। ফলে মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকের রাতেও বিতর্কের রেশ কাটছে না।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও