ঢাকায় অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ হারানোর স্বাদ দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথম লড়াইয়েই বদলে গেছে দৃশ্যপট। চট্টগ্রামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে সফরকারীরা। তাই আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামার আগে মিচেল মার্শের দলের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠেছে বাঁচা-মরার লড়াই। হারলেই হাতছাড়া হবে সিরিজ।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আবারও আলো ছড়িয়েছেন কুপার কনোলি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর এবার ৪৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি। মাত্র ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। সোজা ব্যাটে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে খেলেছেন একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শট, মেরেছেন সাতটি বাউন্ডারি, যার মধ্যে তিনটিই ছিল ছক্কা। টিম ডেভিড ও ম্যাট রেনশর কাছ থেকেও পেয়েছেন কার্যকর সমর্থন।
তবে অস্ট্রেলিয়ার আসল শক্তি ছিল তাদের স্পিন আক্রমণ। অ্যাডাম জাম্পা ও অভিষিক্ত জোয়েল ডেভিসের ঘূর্ণিতে কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরীও বল হাতে ছিলেন কার্যকর। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার স্পিনাররাই তুলে নেন বাংলাদেশের ৯টি উইকেট।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার বড় কারণ ছিল অযথা বড় শট খেলার চেষ্টা। পাওয়ার-প্লেতে ভালো শুরু করলেও শামীম হোসেন ছাড়া প্রায় সব প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারই ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারও মিডল অর্ডারকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে পারেননি।
তবে বোলিংয়ে আবারও আশার আলো দেখিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। নতুন বলে শুরুতেই আঘাত হানলেও কিছুটা খরুচে ছিলেন তিনি। অন্যদিকে অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইন শেষ দিকে দুটি উইকেট নিয়ে সম্ভাবনার আভাস দিয়েছেন। কাটার ও সিম-আপের মিশেলে বোলিং করা এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে আরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য বড় সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে পেস আক্রমণ নিয়ে। দলে রয়েছেন নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের মতো দুই গতিময় পেসার। এ ছাড়া বাঁ-পায়ের কাফের চোট থেকে সেরে ওঠা অধিনায়ক লিটন দাসের খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
চট্টগ্রামের উইকেটে এবারও স্পিন বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গতি ও বাউন্সের চেয়ে টার্ন বেশি পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই উইকেট ১৬০-১৭০ রানের সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট ভালো। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও স্বস্তির, ম্যাচের সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম।
সবমিলে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দুই দলের জন্য দুই ভিন্ন সমীকরণের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ আর বাংলাদেশের সামনে টিকে থাকার শেষ লড়াই। ইতিহাস গড়া ওয়ানডে সিরিজের আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি টাইগাররা, নাকি চট্টগ্রামেই নতুন করে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে অজিরা, সেই উত্তর মিলবে আজ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও