ভারতকে ‘পুশ-ইন’ বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের চলমান ‘পুশ-ইন’ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লুউ। সম্প্রতি প্রকাশিত

2026-06-19T15:51:10+00:00
2026-06-19T16:13:03+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ভারতকে ‘পুশ-ইন’ বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম  আপডেট: ১৯.০৬.২০২৬ ৪:১৩ পিএম
‘পুশ-ইন’ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের চলমান ‘পুশ-ইন’ প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লুউ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই আহ্বান জানায়।

বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি অভিযোগ করে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই জাতিগতভাবে বাঙালি, যাদের বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম, তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এসব পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রতিরোধের কারণে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় বহু মানুষ ও পরিবার আটকে পড়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফ অন্তত ২১ বার ‘পুশ-ইন’ করার চেষ্টা করেছে, যার মাধ্যমে শিশুসহ ২০০-এর বেশি মানুষকে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এইচআরডাব্লুউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আইনি সুরক্ষা ছাড়াই মানুষকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রেখে মানবিক সংকটে ফেলছে। তার মতে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে এই অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করা এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য সঠিক আইনি ও প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটি এমন ৯ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা প্রত্যক্ষ করেছেন কীভাবে বিএসএফ রাতে মানুষকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা তাদের গ্রহণ না করায় পরে ভারতীয় বাহিনী আবার তাদের ফিরিয়ে নেয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

এইচআরডাব্লুউ আরও জানায়, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচন আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ৯০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এতে অনেক মানুষ আটক বা দেশছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে দাবি করা হয়। একইভাবে ২০১৯ সালে আসামের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েন এবং অনেককে আটককেন্দ্রে রাখা হয় বা দেশছাড়া করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাদ্য, পানি, আশ্রয় বা চিকিৎসা ছাড়াই সীমান্তে মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর আচরণ।

এইচআরডাব্লুউর মতে, ভারত সরকারের উচিত বহিষ্কারের ঝুঁকিতে থাকা সব মানুষের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা—যেমন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পূর্ণ তথ্য জানানো, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ দেওয়া।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুদের এভাবে বহিষ্কার বা অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন, কারণ এতে শিশুদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়।

সংস্থাটি মনে করে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাই ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন সম্ভব। কিন্তু এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়ছে এবং গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

এইচআরডাব্লুউর উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, কাউকে সীমান্তে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মাঝখানে আটকে রাখা অমানবিক। ভারতের উচিত এই নিষ্ঠুর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। 


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ভারত  পুশ-ইন  হিউম্যান রাইটস ওয়াচ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: