অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেদিকে না হেঁটে কেবল সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে হাঁটছে। বিএনপি সরকার যদি এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারে, তবে দেশ আবারও আরেকটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে আটকে যাবে এবং এই সংস্কার ইস্যুতেই বিএনপি সরকারের পতন হবে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
এনসিপির এই নেতা বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছে। আমরা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে পুরো বাংলাদেশে ১০টি বড় কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, যেখানে প্রতিটি বিভাগীয় কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মানুষ দ্রুত কার্যকর সংস্কার চায়।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির ছত্রছায়ায় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত গুন্ডা ও সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আমাদের ভাইদের খুন করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অযোগ্য ও চাটুকারদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনে ‘জি হুজুর’ টাইপের লোক বসে আছে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে অদক্ষদের পদায়ন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, আগে উন্নয়নের নামে গোপালগঞ্জ মডেল করা হয়েছিল, আর এখন সেই একই মডেল বগুড়ার শিবগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দল বদলেছে, কিন্তু পথ বদলায়নি। তাদের ইতিহাস এখন ‘গোপালগঞ্জ টু শিবগঞ্জ’ বা বগুড়াকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এই আঞ্চলিক বৈষম্য যদি বজায় থাকে, তবে ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা অধরাই থেকে যাবে।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের ছেলেদের দেখা যায়নি, আপনারা তখন আরাম-আয়েশে ছিলেন কিংবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে ছেলেদের ঠিকাদারি কাজ দিয়েছেন। এখন আবার সেই নোংরা রাজনীতি শুরু করেছেন। যদি নামকরণ করতেই হয়, তবে শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মুগ্ধ সহ যে ১৪০০ মানুষ শহিদ হয়েছেন, তাদের নামে করুন।
বাগেরহাটে পৌঁছানোর পর জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.) -এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি ষাটগম্বুজ মসজিদের ঘোড়া দীঘির পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন এবং সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেন।
এ সময় তার সঙ্গে এনসিপির বাগেরহাট জেলা কমিটির সমন্বয়ক সৈয়দ আনোয়ার মোর্শেদ সোহেল, সদস্য সচিব আল আমিন খান সুমনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই