প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের দীর্ঘদিনের সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শারীরিক সম্পর্ককে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে ‘ধর্ষণ’ বলা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি বিবেক কুমার সিংয়ের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত বলেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর পরে বিয়ে না হলে, সব ক্ষেত্রে তা ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
এ রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত সঞ্জয় সরোজ ওরফে সঞ্জয় কুমারের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রায়াল কোর্টে চলমান মামলার কার্যক্রম বাতিল করে দেন আদালত।
৩৪ পৃষ্ঠার রায়ে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, কোনো নারী যদি জেনে-শুনে এবং সম্মতির মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান, তাহলে শুধু বিয়ে না হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে দেখা যায় না।
আদালত আরও বলেছে, এই মামলাটি মূলত ব্যক্তিগত বিরোধ ও ক্ষোভ থেকে করা হয়েছে। কারণ, মামলা দায়েরের পর অভিযোগকারী নিজেই অভিযুক্তকে বিয়ে করেন, যা ঘটনাটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রয়াগরাজের কর্নেলগঞ্জ থানায় এ মামলা হয়। অভিযোগকারী নারী জানান, ২০১৪ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অভিযুক্তের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে তদন্তে শারীরিক নির্যাতনের কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আগের কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করে জানায়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি শুরু থেকেই যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় এবং তা প্রমাণিত হয়, তখনই সেটিকে ধর্ষণের পর্যায়ে বিবেচনা করা যেতে পারে।
আদালতের মতে, পাঁচ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কে প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের পেছনে শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি ছিল এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাটিকে বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিল করে দেয়।
সময়ের আলো/আরবিএন