উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মানোন্নয়ন, উদ্ভাবনী বিপণন ও শ্রমিক কল্যাণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের শীর্ষ চা বাগান, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ‘চায়ের রাজধানী’ খ্যাত শ্রীমঙ্গলের অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে ‘৬ষ্ঠ জাতীয় চা দিবস’ উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও সনদ তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তারা হলেন, একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান, শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান। সর্বোচ্চ গুণগতমানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী, মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রফতানিকারক, দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী, মো. মতিয়ার রহমান (সোনাপাতিলা গ্রাম, আটোয়ারী, পঞ্চগড়)। শ্রমিক কল্যাণে শ্রেষ্ঠ চা বাগান, মির্জাপুর চা বাগান। উদ্ভাবনী বাজারজাতকরণ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ চা মিশ্রণ (পৃথক দুটি ক্যাটাগরি), কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড। শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (শ্রমিক ক্যাটাগরি), জেসিমিন ওরাওঁ (নেপুচা চা বাগান)। শ্রেষ্ঠ বটলিং চা কারখানা, সৃষ্টি টি লিমিটেড (জগদল, পঞ্চগড় সদর)।
বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা কেবল একটি পানীয় নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, অর্থনীতি এবং লাখো মানুষের জীবিকার অংশ। বর্তমানে দেশে ১৬০টিরও বেশি চা বাগান এবং অসংখ্য ক্ষুদ্র চা বাগান জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই শিল্প আজ এই অবস্থানে এসেছে। তাই তাদের ন্যায্য মজুরি, উন্নত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
শ্রীমঙ্গলের সবুজ চা বাগান, হাওর, ছড়া এবং নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের ‘চা পর্যটন’ গড়ে তোলার বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে ‘শ্রীমঙ্গল পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, সরকার চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে অত্যন্ত আন্তরিক। চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী— সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, চা শিল্পকে আধুনিকায়ন করতে সব কার্যক্রম ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ডিজিটাল করা হয়েছে। এছাড়া সেবা সহজ করতে চালু করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ টি ইন্ডাস্ট্রি’ ও ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ নামে দুটি মোবাইল অ্যাপ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ক্লোন উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি চাকে আরও রফতানিমুখী করতে জেসমিন টি, রোজ টি, লেমন টি, মাসালা টি ও চকোলেট টির মতো ভ্যালু অ্যাডেড চা উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বিএনপির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, বট লিফ টি মালিক সমিতির সভাপতি নিয়াজ সিদ্দিকী, টি প্ল্যান্টার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাইনুদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘চা মেলা’র বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং চা উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সময়ের আলো/জোই