মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ৩ টার দিকে সীমান্ত শূণ্য রেখায় বাংলাদেশি এক নাগরিককে বিএসএফ ও ভারতীয় দুই নাগরিককে বিজিবি ছেড়ে দেয়।
বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি নাগরিক আব্দুল মান্নান ইছাখালী মসজিদপাড়ার মৃত নুর বক্সের ছেলে। এবং বাংলাদেশীদের হাতে আটককৃতরা হলেন নদীয়া জেলার তেহট্টা থানার লালবাজার গ্রামের মৃত. মনমোহন দাসের ছেলে শ্রী. শচীন দাস (৬৫) ও একই এলাকার কুঞ্জ বিশ্বাসের ছেলে শ্রী. নরতন বিশ্বাস (৩৫)।
আব্দুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তাদের বাড়ির পাশে মরিচের জমিতে কীটনাশক দিতে যান তার দাদা। এ সময় ১২৪/৪-এস সীমান্ত পিলার এলাকার কাছ থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।
এদিকে, আব্দুল মান্নানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পর ১২৩/৩-এস সীমান্ত পিলার এলাকা থেকে ভারতের লালবাজার গ্রামের দুই নাগরিককে ধরে আনেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকজন। পরে তাদের ইছাখালী বিজিবি ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশি ওই কৃষক সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড সংলগ্ন ভারতীয় কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় থাকা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যোগাযোগ হলে ইছাখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফল আলোচনা শেষে আটক বাংলাদেশি কৃষক আব্দুল মান্নানকে বিজিবির কাছে এবং আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের ৬ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জিরো লাইনের কাছে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে স্ব-স্ব বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের এ পতাকা বৈঠক করেন ভারতের নবচন্দ্রপুর বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাজিব কুমার এবং ইছাখালি বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবু হানিফ।
সময়ের আলো/আতা