মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি খাস জমি দখল করে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নতুনচর চাষীরা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে থেকে গজারিয়া উপজেলার চর জাজিরা ও নতুন বসুরচর মৌজায় এনডিই কোম্পানি তাদের কারখানার উত্তর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমি সঠিকভাবে পরিমাপ না করেই প্রতিষ্ঠানটি পার্শ্ববর্তী প্যাসিফিক গ্রুপের জায়গা,ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এবং সরকারি খাস জমি সীমানা প্রাচীরের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা বেশ কিছুদিন ধরে সঠিকভাবে সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছিল কোম্পানিটি।
এদিকে শনিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় এনডিই কর্তৃপক্ষ। পরে খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পুরোপুরো শান্ত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন সরকার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখল করেছিল। এখন আবার স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে সেই দখলকৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে। আমরা এই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম বলেন, কোম্পানি তার কেনা জায়গায় কাজ করলে কেউ তো বাধা দেবে না। কিন্তু রাতের অন্ধকারে পরিমাপ ছাড়া নদীর জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গায় দেয়াল তোলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে বলেই সবাই আজ প্রতিবাদে নেমেছে।
আরেক ভুক্তভোগী মফিজ মিয়া জানান, তার নিজের জমি দখল করে প্রাচীর তোলা হচ্ছে দেখে তিনি প্রতিকার চেয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে এনডিই গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি ম্যানেজার মতিউর রহমান জমি দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কারও জমি জোরপূর্বক দখল করিনি। আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির নিরাপত্তার স্বার্থেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। কারো যদি দাবি থাকে যে তাদের জমি প্রাচীরের ভেতরে পড়েছে তবে তারা কাগজপত্র নিয়ে আসুক। প্রমাণ হলে আমরা জায়গা ছেড়ে দেব অথবা আলোচনা সাপেক্ষে উপযুক্ত দাম দিয়ে কিনে নেব।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/এনএন