উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে এলএসডি, ভ্যাকসিন সংকট!

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)। ভ্যাকসিনের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত

2026-06-20T19:28:12+00:00
2026-06-20T19:31:20+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে এলএসডি, ভ্যাকসিন সংকট!
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম  আপডেট: ২০.০৬.২০২৬ ৭:৩১ পিএম
উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে গবাদিপশুর রোগ এলএসডি। ছবি : সময়ের আলো
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত রোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)। ভ্যাকসিনের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত গরমে প্রকোপ বৃদ্ধি এবং পশুর হাটের কারণে সংক্রমণ বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেও মনে করছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএসডি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। এ রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরে গুটি, ক্ষত, জ্বর, পা ফুলে যাওয়া, খাদ্যে অনীহা এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য গবাদিপশু ইতোমধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক খামারি ও গৃহস্থ পশুর শরীরে গুটি ও ক্ষত দেখা দেওয়ার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত পশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হোসেনপুর উপজেলায় প্রায় ১০টির বেশি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে হোসেনপুর গরুর হাট, পিতলগঞ্জ গরুর হাট, চরপুমদী গরুর হাট ও সুরাটি গরুর হাট অন্যতম। এসব হাটে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গরু কেনাবেচা হয়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এলএসডিতে আক্রান্ত কোনো পশু যেন হাটে আনা না হয়। কারণ আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শে এসে সুস্থ পশুও দ্রুত সংক্রমিত হতে পারে।


প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়। পরে ধীরে ধীরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাম্পি স্কিন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলায় রোগটি বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এটি গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা-মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত পশুর লালা, খাবার, ব্যবহৃত সামগ্রী, এমনকি একই সিরিঞ্জ একাধিক পশুর শরীরে ব্যবহার করলেও ভাইরাসটি এক পশু থেকে অন্য পশুতে সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ষাঁড়ের বীর্য প্রজননে ব্যবহার করলেও রোগ বিস্তারের ঝুঁকি থাকে।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, আক্রান্ত পশু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাদ্যের প্রতি অনীহা দেখা দেয়। পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে শক্ত গুটি সৃষ্টি হয়, যা ক্ষতে পরিণত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নাক ও মুখ দিয়ে লালা ঝরা, পা ফুলে যাওয়া এবং শরীরে পানি জমার মতো লক্ষণও দেখা যায়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত পশুকে দ্রুত আলাদা করে রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করে মশা-মাছির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। খামার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুর খাবার, পানির পাত্র ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী সুস্থ পশুর সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না। আক্রান্ত গাভীর দুধ বাছুরকে খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির (শিহাব) জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় দুই হাজার ও বেশি গবাদিপশু এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় মোট গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার। প্রতিদিনই আক্রান্ত পশু চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, এলএসডি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ভ্যাকসিনের কিছু ভাইল এসেছিল, কিন্তু বর্তমানে ভ্যাকসিনের সীমাবদ্ধতা থাকায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতাল ছাড়া বাহিরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ভ্যাকসিন।

তিনি আরও বলেন, পশুর শরীরে এলএসডির লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর অথবা নিবন্ধিত প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোগ প্রতিরোধে খামারিদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচর্যাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আক্রান্ত পশু হাটে না আনা, খামারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এলএসডির বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   কিশোরগঞ্জ  হোসেনপুর  গবাদিপশু  ভাইরাস  লাম্পি স্কিন ডিজিজ  এলএসডি  ভ্যাকসিন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: