চুয়াডাঙ্গার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অন্যের জমিতে ‘বীর নিবাস’

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলীর নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ‘বীর নিবাস’ নির্ধারিত স্থানে না করে অন্যের

2026-08-10T09:59:10+00:00
2026-08-10T09:59:10+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
চুয়াডাঙ্গার আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অন্যের জমিতে ‘বীর নিবাস’
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম 
আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অন্যের জমিতে ‘বীর নিবাস’। ছবি : সময়ের আলো
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর আলীর নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ‘বীর নিবাস’ নির্ধারিত স্থানে না করে অন্যের জমিতে নির্মাণের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে ঘরটি বিক্রির অভিযোগের সরাসরি কোনো প্রমাণ মেলেনি। একই সঙ্গে, আবেদনকারী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাঈল হোসেনকে একজন সচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই বীর নিবাসটির নির্মাণস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ঘর বিক্রির অভিযোগের বিষয়টি ধোঁয়াশাপূর্ণ থাকলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করেছেন ওই টাকা মূলত ধার বা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তবে টাকা পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি ঘর বিক্রির অভিযোগের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার ইঙ্গিত দিলেও বিক্রির পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ চুক্তি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হককে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দে। কমিটি বাড়াদী গ্রামে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।


তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাঈল হোসেন নির্ধারিত স্থানে বীর নিবাস নির্মাণ না করে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই সায়েরা খাতুনের জমিতে সরকারি অর্থে ঘরটি নির্মাণ করেন।

ইসমাঈল হোসেন তদন্ত কমিটিকে জানান, বীর নিবাস বরাদ্দ পাওয়ার পর যে জমির দলিল জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো আবাসন নির্মাণের নকশায় কিছু পরিবর্তন আসে। এতে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। নিজের বসতবাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি না থাকায় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সায়েরা খাতুনের জমিতে বীর নিবাসটি নির্মাণ করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থে নির্মিত বীর নিবাসটি ইসমাঈল হোসেন সায়েরা খাতুনের কাছে ৫ লাখ টাকায় বিক্রির মৌখিক চুক্তি করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এর অংশ হিসেবে সায়েরা খাতুন ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধও করেছিলেন।

তবে তদন্তকালে সায়েরা খাতুন ঘর কেনাবেচার কথা অস্বীকার করেন। তিনি কমিটিকে জানান, বীর নিবাস নির্মাণের জন্য প্রথমে নির্ধারিত জমি নিয়ে তিনি ইসমাঈল হোসেনকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। পরে ইসমাঈল হোসেন ঘর নির্মাণের জন্য মৌখিকভাবে তাকে ১০ শতক আবাদি জমির বিনিময়ে নিজের বসতবাড়ির ২ শতক জমি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন।

অন্যদিকে, ইসমাঈল হোসেনও বীর নিবাস বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, নির্মাণের সময় তিনি সায়েরা খাতুনের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। ফলে বিক্রির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না মিললেও সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরকে কেন্দ্র করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ইসমাঈল হোসেনকে একজন সচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আর্থিক সচ্ছলতার বিষয়টি তাই নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, শুধু ঘরটি বিক্রি হয়েছে কি না— এতটুকুতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী সঠিক স্থানে নির্মাণ, অন্যের জমিতে সরকারি অর্থে ঘর তোলা, অনুমতি ছাড়া স্থান পরিবর্তন এবং সরকারি প্রকল্পের কাজে ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের দাবি, এসব বিষয়ের সঠিক ব্যাখ্যা ও নথিপত্র যাচাই করা না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নেওয়া এই আবাসন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তার বলেন, তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   চুয়াডাঙ্গা  আলমডাঙ্গা  খুরনা  আর্থিক লেনদেন  অন্যের জমি  বীর নিবাস  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: