নির্মাণের ১১ বছর পরও তালাবদ্ধ হাসপাতাল

শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল

সারাদেশ

সরকারি অর্থে নির্মিত আধুনিক ভবন। রোগীদের জন্য বেড আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ডও টাঙানো। নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। নির্মাণের ১১ বছর

2026-08-10T02:56:45+00:00
2026-08-10T02:56:45+00:00
 
  সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
নির্মাণের ১১ বছর পরও তালাবদ্ধ হাসপাতাল
শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৬ এএম 
ছবি : সময়ের আলো
সরকারি অর্থে নির্মিত আধুনিক ভবন। রোগীদের জন্য বেড আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ডও টাঙানো। নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। নির্মাণের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোড়পাড়া বাজারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি আজও চালু হয়নি। 

একদিকে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে চারটি ইউনিয়নের লাখো মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাই হাসপাতালটি চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ভবন ও কিছু আসবাবপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বরাদ্দ এখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পদ অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গোড়পাড়াসহ উত্তর শার্শার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী নিজামপুর, ডিহি, লক্ষণপুরসহ আশপাশের এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১১ বছর। এখনও সেখানে একজন চিকিৎসকও বসেননি, একজন রোগীও চিকিৎসা পাননি।

সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালায় মরিচা ধরেছে, দেয়ালের রং খসে পড়ছে। রোগীদের জন্য আনা বেড, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ধুলাবালিতে ঢেকে নষ্ট হওয়ার পথে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিত্যক্ত ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। 


স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসপাতালটি চালু থাকলে প্রসূতি মা, নবজাতক ও জরুরি রোগীরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু এখন কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে নাভারণ বা যশোর সদর হাসপাতালে নিতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কপথে রোগীর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল চোখের সামনে থাকলেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার এই বাস্তবতা সীমান্তবাসীর কাছে চরম হতাশার। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।

সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এবং বহু প্রতীক্ষিত গোড়পাড়া ১০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করে লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিশ্চিত করা হোক।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে


  বিষয়:   তালাবদ্ধ  হাসপাতাল  বেনাপোল  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: