হাওরের প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত পর্যটনসমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জের নিকলীতে অপ্রশস্ত সেতু ও সরু সড়কের কারণে দিন দিন বাড়ছে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়লে এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও সেতুটি প্রশস্তকরণের জন্য বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
সরেজমিন দেখা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার শেষ সীমানা করগাঁও ইউনিয়ন থেকে নিকলী উপজেলা সদর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির বেশিরভাগ স্থানই ভাঙাচোরা এবং কোথাও মাত্র ৮ থেকে ১২ ফুট প্রশস্ত। ফলে দুটি বড় গাড়ি মুখোমুখি হলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। এই সরু রাস্তা দিয়েই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ভারী ট্রাক চলাচল করায় সড়কজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে বাজার, দোকানপাট ও বাড়িঘর গড়ে ওঠায় রাস্তা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা নিকলীর রোদা নদীর ওপর নির্মিত ‘রোদার পুড্ডা’ সেতুটি। অত্যন্ত সংকীর্ণ এই ব্রিজে একসাথে দুটি গাড়ি পার হতে পারে না। স্থানীয় বৃদ্ধ বাসিন্দা কালাচান আঞ্চলিক ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোদার পুড্ডার এই বিরিজডা দে একটা গাড়ি আইলে আরেকটা গাড়ি যাইতারে না, খারোইয়া তাহে, জাম ওইয়া জাগা। খুব মানুষের সমস্যা হইতাসে। সরকারের কাছে আমরার আবেদন— ব্রিজডা যেন একটু বড় করা হয়।
আরেক বাসিন্দা নাজিম আল হাসান জানান, বর্ষাকালে যখন হাজার হাজার পর্যটক হাওর ভ্রমণে আসেন, তখন এই সরু সেতু ও রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনও আটকে থাকে। পাশাপাশি এলাকার চারটি ইটভাটার অতিরিক্ত ইট বোঝাই গাড়ি চলাচল করায় সড়কটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
যোগাযোগ ব্যবস্থার এই সংকটের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কিশোরগঞ্জ-নিকলী আঞ্চলিক মহাসড়কটি যথাযথ মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমরা ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই, হাইড্রোলজি ও মরফোলজি স্টাডি এবং সড়কের পেভমেন্ট ও ব্রিজের ডিজাইন তৈরির কাজ চলছে। আশা করি দ্রুতই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রণয়ন করতে পারব।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পর্যটকদের আশা, জনগুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়ক ও সেতুটি দ্রুত প্রশস্ত করা হলে পর্যটনকেন্দ্রিক নিকলীর অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন আসবে।
সময়ের আলো/জোই