প্রতিটি ভোর মানুষের জীবনে নতুন এক সুযোগ নিয়ে আসে। ঘুম থেকে ওঠার পর কারও দিন শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর ব্যস্ততার হিসাব কষে, আবার কারও শুরু হয় আল্লাহর স্মরণ দিয়ে। দিনের শুরুর সময়ের উপর অনেকটা নির্ভর করে, পুরো দিনটা কেমন কাটবে। তাই তো ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, সকাল থেকেই আল্লাহর ওপর ভরসা করে, নামাজ ও দোয়ার মাধ্যমে দিন শুরু করা। কারণ আল্লাহর স্মরণে শুরু হওয়া দিন কাজে সফলতা আনার পাশাপাশি, মনের প্রশান্তিও এনে দেয়। এভাবেই মুমিনের একটি দিন বরকতময় হয়ে ওঠে।
দিনকে বরকতময় করার প্রথম ধাপ- ভোরে জেগে ফজরের নামাজ পড়া। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে, রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন। ফজরে কোরআন পড়ার ব্যবস্থা রাখুন, কারণ, ফজরে কোরআন পড়া ফেরেশতাদের সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়।’ (সুরা ইসরা, আয়াত : ৭৮)।
ফজরের সময়ের ইবাদত মানুষের অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়। পুরো দিনের জন্য তাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
নবীজি (সা.) দিনের প্রথম ভাগের গুরুত্ব তুলে ধরে দোয়া করেছেন, ‘হে আমার আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের প্রথম ভাগে বরকত দান করুন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ২৬০৬)।
এ হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, দিনের শুরুটা যত সুন্দর ও শৃঙ্খলার সঙ্গে হবে, ততই তাতে কল্যাণ ও বরকতে পূর্ণ হবে।
ফজরের নামাজের পর কিছু সময় আমাদের কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় কাটানো উচিত। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫২)।
আল্লাহর স্মরণ মানুষের মনকে প্রশান্ত করে, উদ্বেগ কমায় এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, সৎকাজের নিয়ত, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করার মাধ্যমেও দিনকে বরকতময় করতে পারি আমরা। একটি ছোট কাজ। কিন্তু কাজটা ভালো এবং একটি সুন্দর কথা কিংবা কারও উপকার করার মানসিকতাও একটি দিনকে কল্যাণময় করে তুলতে পারে।
অতএব, যে দিন আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত, কৃতজ্ঞতা এবং ভালো কাজের সংকল্প দিয়ে শুরু হয়, সে দিনেই নেমে আসে প্রশান্তি, রহমত ও বরকত। তাই প্রতিটি সকাল হোক ফজরের আলোয় আলোকিত, প্রতিটি কর্ম হোক আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে।
সময়ের আলো/এসএকে