দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লেবানন। চুক্তি স্বাক্ষরের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা চুক্তি লঙ্ঘন করেনি, বরং হিজবুল্লাহর উস্কানির ‘প্রতিরক্ষামূলক’ জবাব দিয়েছে। এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানান, দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রাতভর ৫০টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
ইসরায়েলি পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গত ৪৮ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের ৫ জন সৈন্য নিহত হয়েছে। তারা রাজনৈতিক নির্দেশনা মেনে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নিজেদের সেনা বা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কোনো আঘাত এলে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে ইসরায়েলের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। তাদের অভিযোগ, চুক্তি কার্যকরের পর থেকেই ইসরায়েল শত শত বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। হিজবুল্লাহর দাবি, শনিবার রাতে দক্ষিণ লেবাননের ‘আলি আল-তাহের’ পাহাড় এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনী। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদের প্রতিহত করলে ইসরায়েল সীমানার ভেতরে ও বাইরে একযোগে বিমান হামলা শুরু করে।
হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ নেতা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি সেনাদের কোনো ধরনের ‘মুক্ত চলাচল’ বা আগ্রাসন বরদাশত করা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের ভূমি দখল করে রাখবে, ততক্ষণ সশস্ত্র প্রতিরোধ জারি রাখা আমাদের বৈধ অধিকার।
সময়ের আলো/কহু