ভারতে মুসলিম ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির করা মন্তব্যকে সম্পূর্ণ উদ্ভট এবং ঘৃণা থেকে জন্ম নেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক হামলা বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি অত্যন্ত কড়া ভাষায় ইসলামাবাদকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে কথা বলার বা নাক গলানোর ন্যূনতম অধিকার পাকিস্তানের নেই।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট যে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেছেন, ভারত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ভারতের একান্তই নিজস্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো এক্তিয়ার তার নেই।
রণধীর জয়সওয়াল উল্টো পাকিস্তানের শোচনীয় মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যে দেশের নিজস্ব মানবাধিকারের রেকর্ড বিশ্বজুড়ে নিন্দিত, তাদের মুখে এমন কথা মানায় না। পাকিস্তানে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের সংখ্যালঘুদের যেভাবে পদ্ধতিগতভাবে নিশানা ও নির্যাতন করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত কুখ্যাত।
তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতিই হলো ধর্মান্ধতা ও ঘৃণা ছড়ানো। আর সেই নীতি থেকেই প্রেসিডেন্ট জারদারি এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক হামলা চালিয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কড়া জবাবের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্টের সূত্র টেনে বলা হয়, পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর ধর্মের নামে সহিংসতা নিত্যদিনের ঘটনা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওয়াচডগের মতে, পাকিস্তানে বিতর্কিত ‘ব্লাস্ফেমী’ বা ধর্ম অবমাননা আইনের অপব্যবহার এবং বৈষম্যমূলক আইনের কারণে সংখ্যালক্ষীদের ওপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত। জারদারি তার পোস্টে দাবি করেন, ভারতের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ গঞ্জ শহীদাসহ বেশ কিছু মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তার এই বিতর্কিত মন্তব্যের পরপরই পাল্টা আক্রমণ করে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, পাকিস্তান যেন তাদের নিজেদের ঘরোয়া সমস্যা ও দেউলিয়া প্রায় পরিস্থিতির দিকে নজর দেয় এবং প্রতিবেশীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকে।
/কহু