লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কিশোরী গৃহবধূ মারিয়া জাহান মীম (১৬)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, মীমের স্বামী মাহিম (২০), শাশুড়ি মাহিনুর বেগম (৪০) এবং মো. দেলোয়ার হোসেন সোহাগ (৩৯)।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ৩টায় রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বিত তৎপরতায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা থেকে তাদেরকে থানায় আনা হচ্ছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন দুপুরে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলীপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে মারিয়া জাহান মীমের মৃত্যু হয়। মীম উপজেলার চর সেকান্দর গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মালেকের মেয়ে। প্রেমের সম্পর্কের পর ৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হলেও বিয়ের পর কাবিনের অর্থসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন মীমের মৃত্যুকে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও নিহতের পরিবারের দাবি এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আত্মগোপন করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার পর থেকেই র্যাব-১১, সিপিসি-৩ তাদের তৎপরতা বাড়ায় এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার যৌথ অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।
ওসি লিটন দেওয়ান জানান, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বিত তৎপরতায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদেরকে ঢাকা থেকে রামগতি থানায় আনা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এছাড়া ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সময়ের আলো/জোই