গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ছাত্রশিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) দীর্ঘ ৪৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই ঘটনায় গত ২১ জুন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল দুইয়ে।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। গত ২১ জুন বিকেলে উপজেলা চত্বরে এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সাময়িকভাবে মিটমাট হলে সবাই স্থান ত্যাগ করেন।
তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা। বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা চত্বর-সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান যুবদল আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন মুকুল মিয়ার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম এবং যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ আরও কয়েকজন। ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করেন বলে জানা গেছে।
হামলার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে দীর্ঘ ৪৭ দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
সালাউদ্দিনের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ার শিমুলতাইড় গ্রামে, তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হুদা দুদুর ছেলে।
সময়ের আলো/জোই