দীর্ঘ দিন থেকে সামান্য বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের ধাওয়ানশীপুর (ধাওয়া) ও কোকতাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের। ধাওয়া থেকে কোকতাড়া গ্রামে চলাচলের একমাত্র রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে হঠাৎ বৃষ্টি হলেও এই রাস্তা দিয়ে,যানবাহন তো দূরের কথা বাইসাইকেল বা পায়ে হেটে চলাচল মুশকিল হয়ে যায়। রাস্তার উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সময়ে অনেকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও যার সিকিভাগও বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস বলছে এডিপি প্রকল্পের অর্থ থেকে ধাওয়া মাসুদের দোকান থেকে ৪১০ মিটার ইট দিয়ে সলিং করা হবে। আর অন্য দিকে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান বলছেন রাস্তাটির টেন্ডার হয়েছে খুব দ্রুত সময়ে কাজ শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কোকতাড়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুরবস্থার পণ্য পরিবহণে কারণে কষ্টের পাশাপাশি লোকসানও গুনতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। শিক্ষার্থী পথচারীর পিছলে পড়ে আহত হওয়ার পাশাপাশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্থানীয় যান উল্টে দুর্ভোগের তৈরি হচ্ছে।
হাকিমপুর হিলি পৌর শহরের ছাতনী চৌমুহনী বাজার থেকে ধান নিতে আসা অটোচার্জার চালক মোবাশ্বের হোসেন বলেন, মহাজনের ঘরের ধান ঢলায় করতে এসে বিপদে পড়েছি। এখানকার রাস্তার বেহাল দশা। একটা ধান বোঝাই গাড়ি ৪-৫ জন মিলে এক একেকটা গর্ত পাড় করতে হচ্ছে। প্রতি বস্তুা (৭৫ কেজি ধান) ঢলায় করতে ৫০ টাকা নেয় তাও সম্ভব হবে না।
ধান নিতে আসা আর এক অটোচার্জার চালক রায়হান বলেন, ধান নিতে এসে রাস্তার যে, অবস্থা বাধ্য হয়ে নিজে নিজে অস্থায়ী সংস্কার করে ধান নিয়ে যাচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার বা সাধারণ জনগণের পক্ষে থেকে হলেও রাস্তাটির সংস্কার করা দরকার।
এই রাস্তা দিয়ে ধাওয়ানশীপুর থেকে কোকতাড়া স. প্রা. বিদ্যালয়ে আসা আন্জুয়ারা খাতুন বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে রাস্তার এই অবস্থা। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্কুলে যাওয়া খুব কষ্ট হয়। ছাত্র ছাত্রীর তো আরও কষ্ট। অনেকেই স্কুলে আসেনা।
ছাতনী চৌমুহনী বাজারের ধান কেনা মহাজন নূর মোহাম্মদ বলেন, রাস্তার বেহাল দশার কারণে ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। রাস্তাটা দ্রুত সংস্কার হলে ভাড়া কম লাগতো। তখন গৃহস্থ বা যারা ধান বিক্রি করবে তারা দাম বেশি পারে। বর্তমানে কাটারি ১৪৫০- ১৫০০ টাকা কিনতেছি।
ধান বিক্রেতা কোকতাড়া গ্রামের জামান আলী বলেন, শুধু ধান বিক্রি নয় আমাদের গ্রামের রাস্তার এই বেহাল দশার কারণে ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে পর্যন্ত দিতে চায় না। রাস্তার কারণে প্রতি মন ধান প্রায় ১০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার সংস্কার এর দাবি জানায়। শুধু নির্বাচন আসলে নেতারা বলে এবার এই রাস্তা পাকাকরণ করা হবে। নির্বাচন শেষে যা তাই।
এবিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান বলেন, এবারে এডিপি প্রকল্পের অর্থ থেকে ধাওয়া গ্রামের মাসুদের দোকান কোকতাড়া গ্রামে আসা রাস্তার ৪১০ মিটার ইট সলিং ঢালায় কাজ টেন্ডার হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এই কাজ সম্পূর্ণ ধাওয়া থেকে কোকতাড়া গ্রামের অর্ধেক পর্যন্ত আসতে পারে।
ভবিষ্যতে রাস্তাটি ১০ ফিট প্রস্থে পাকাকরণের লক্ষ্য রাস্তাটির আইডি করনের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইডি হলে ভবিষ্যতে রাস্তাটি অবশ্যই পাকাকরণ করা হবে, বলেও জানান এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
আলিহাট ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দীপংকর শাহা রিপন বলেন, যেহেতু বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। তাই দুই এক দিনের মনে কোকতাড়া গ্রামের ওই রাস্তায় রাবিশ বা ইটের আধলা দিয়ে সংস্কার এর ব্যবস্থা করা হবে।
আলিহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইমরান আলী বলেন, কোকতাড়া থেকে ধাওয়ানশীপুর যাওয়া রাস্তাটি এডিপি প্রকল্পের অর্থে ইট বিছিয়ে সলিং বা ঢালায় কাজের টেন্ডার হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ!
তবে দুই গ্রাম বাসীর দাবি, যে কোন প্রকল্পের অর্থ দিয়ে হোক কোকতাড়া থেকে ধাওয়া যাওয়া আসা করা একমাত্র রাস্তাটি সম্পূর্ণ যেন পাকাকরণ বা ইট বিছিয়ে সলিং ঢালায় এর ব্যবস্থা করা হয়।
সময়ের আলো/আতা