প্রতিটি নতুন সকাল আল্লাহ তায়ালার এক মহামূল্যবান নিয়ামত। ঘুম থেকে জেগে ওঠা, নতুন দিনের আলো দেখা এবং জীবনের আরেকটি সুযোগ পাওয়া রবের অসীম দয়ার বহিঃপ্রকাশ। তাই একজন মুমিনের উচিত দিনের শুরুতেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁর স্মরণে নিজেকে নিয়োজিত করা।
নবীজি (সা.) ঘুম থেকে জেগে এই দোয়া পাড়তেন, ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর’।
অর্থ, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর ন্যায় ঘুমের পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩১২)।
এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রতিটি সকাল আল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন জীবনের এক উপহার।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রা'দ, আয়াত : ২৮)।
আজকের ব্যস্ত ও অস্থির এই জীবনে মানুষ মানসিক শান্তির খোঁজে নানা পথে ছুটে চলে। অথচ প্রকৃত প্রশান্তি রয়েছে আল্লাহর যিকির ও তাঁর স্মরণে।
একজন মুমিনের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুরু হলো ফজরের নামাজ আদায় করে, কোরআন তিলাওয়াত করে এবং সকালবেলার মাসনুন যিকিরের মাধ্যমে দিন শুরু করলে আল্লাহ তায়ালা তার সময় ও কাজে বরকত দান করেন। আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘যখন নামাজ শেষ হবে, তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর রহমত অনুসন্ধান কোরো, আর আল্লাহকে বেশি স্মরণ কোরো যেন তোমরা সফল হতে পার।’ (সুরা জুমুআহ, আয়াত: ১০)।
দুঃখজনকভাবে আমরা অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা দুনিয়াবি ব্যস্ততায় নিমগ্ন হয়ে যাই। অথচ দিনের প্রথম মুহূর্তগুলো যদি আল্লাহর স্মরণে কাটায়, তাহলে তা পুরো দিনের জন্য কল্যাণ ও প্রশান্তির কারণ হতে পারে।
সুতরাং আসুন, প্রতিটি সকালকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। ফজরের সালাত আদায় করি, কুরআন তিলাওয়াত করি এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণময় দিনের জন্য দোয়া করি। মহান আল্লাহ আমাদের জীবনকে তাঁর আনুগত্যে পরিচালিত করার তাওফিক দান করুন এবং প্রতিটি সকালকে আমাদের জন্য রহমত, বরকত ও সফলতার মাধ্যম বানিয়ে দিন। আমিন।
সময়ের আলো/এসএকে