গাজীপুরের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের মাঝে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার মোট চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিন-রাতে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজে নিম্ন আয়ের মানুষকে আখের রস বা শরবতের দোকানে ভিড় করতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি সন্ধ্যা ও রাতে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সামনে এইচএসসি, সমমান ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাময়িক পরীক্ষা থাকলেও লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।
কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, সন্ধ্যায় পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে পড়াশোনা তো দূরের কথা, টেবিলে বসাই দায় হয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। তারা এই সংকট থেকে উত্তরণে স্থানীয় প্রশাসন এবং গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ. কে. এম ফজলুল হক মিলনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অসহনীয় গরমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কিন্তু হাসপাতালে লোডশেডিংয়ের কারণে ভর্তি রোগীরা আরও বেশি ছটফট করছেন। ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান না চলায় রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে।
এদিকে লোডশেডিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন খোকন বলেন, একবার বিদ্যুৎ গেলে দেড় ঘণ্টার আগে আসে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। এছাড়া চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ চলাকালেও বিদ্যুৎ না থাকায় চরম হতাশ ক্রীড়ামোদিরা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে ফোন দিলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রাহক বলেন, ডিজিএম-কে ফোন করলে তিনি দায় এড়াতে বলেন, আমাকে ফোন দিয়েছেন কেন? আমি কিছু জানি না, এজিএম-কে ফোন করেন। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকর্তা সত্যিই দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আক্তার হোসেন মোবাইলফোনে জানান, উপজেলায় বর্তমানে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা চাহিদার মাত্র ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সরবরাহ পাচ্ছি। ঘাটতি থাকার কারণেই মূলত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি উল্টো এই লোডশেডিংয়ের সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সময়ের আলো/জোই