সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃমকর্মীর গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত গৃহকর্মীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে তার ‘কথিত’ প্রেমিক বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত বাবুলকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয়তলা থেকে তাদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, আব্দুস সাত্তার মিয়া (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (২৫)।
নিহত আব্দুস সাত্তার বিয়ানীবাজারের আকাখাজনা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করতেন। তার চার সন্তানের সবাই বিদেশে (দুজন যুক্তরাজ্য ও দুজন যুক্তরাষ্ট্র) থাকায় বাসায় এই বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মী ছাড়া অন্য কেউ থাকতেন না।
এদিকে, ঘটনার পরপরই পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল গঠন করা হয় এবং বেলা ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে বাবুলকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও আটক বাবুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি আব্দুস সাত্তারের বাসায় রঙের কাজ করার পাশাপাশি কসাইয়ের কাজও করতেন। গত ১৫-২০ দিন ধরে ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকালে তাহমিনার সঙ্গে একান্তে দেখা করতে ওই বাসায় যান বাবুল। একপর্যায়ে ঘরোয়া বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে বাবুল সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন।
তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দুজনের চিৎকার শুনে বয়োবৃদ্ধ গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল বাথরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে পালিয়ে যান এবং ব্যবহৃত ছুরিটি পাশের একটি খালি প্লটে ফেলে দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই প্লট থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মেট্রো পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আটক বাবুলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার পেছনের অন্য কোনো কারণ বা ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই