ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন লিওনেল মেসি। বয়স এবং ইউরোপের মূলধারার লিগে না থাকার কারণে এখন অনেকেই ব্যালন ডি'অরের দৌড় থেকে মেসিকে বাতিলের খাতায় রাখছেন। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের বিশ্বকাপ আবারও ব্যালন ডি'অরের আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে পারে এই আর্জেন্টাইন জাদুকরকে।
কাগজে-কলমে চ্যালেঞ্জটা পাহাড়সম হলেও খোদ লিওনেল মেসির কাছে নতুন কিছু সৃষ্টি করা অলৌকিক কিছু নয়। দুই যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে এর অসংখ্য প্রমাণ তিনি রেখেছেন।
তবে এবার ব্যালন জিততে হলে তাকে লড়াই করতে হবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, উসমান দেম্বেলে, আর্লিং হলান্ড এবং লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ ও প্রতিভাবান তারকাদের সঙ্গে।
যেহেতু ইউরোপীয় লিগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিচারে অনেকটাই পিছিয়ে, তাই স্বাভাবিক সময়ে এই লিগের খেলোয়াড়দের ব্যালন ডি'অরের জন্য বিবেচনা করা হয় না। তবে এই হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বিশ্বকাপ।
ব্যালন ডি'অরের প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে মেসিকে যা করতে হবে :
প্রথমত, পুরো টুর্নামেন্টে গোল এবং অ্যাসিস্ট মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১২টি গোলে অবদান রাখতে হবে মেসিকে। বিশেষ করে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে অন্তত একটি ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দেওয়া পারফরম্যান্স করা চাই তার।
বিশ্লেষকদের মতে, মেসির নবম ব্যালন ডি'অর জয়ের সমীকরণটি পুরোপুরি নির্ভর করছে চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলার ওপর। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নেয়, তবে মেসির এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।
কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা যদি ফাইনালে উঠতে পারে, তবে মেসির ব্যালন জয়ের সম্ভাবনা একলাফে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত হবে। আর আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারে, তবে ভোটের আলোচনায় পুরো আধিপত্য থাকবে মেসিরই।
অবশ্য মেসির এই যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবেন ইউরোপ মাতানো একঝাঁক তারকা। এমবাপ্পে যদি ফ্রান্সকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন, তবে তিনিও থাকবেন সেরার দৌড়ে।
একইভাবে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন কিংবা স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালও টুর্নামেন্টে বড় প্রভাব ফেলে ব্যালন ডি'অরের শক্তিশালী দাবিদার হতে পারেন।
তবে দিনশেষে ব্যালন ডি'অরের ইতিহাস বলে, পুরো মৌসুমের পরিসংখ্যানের চেয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় বড় মুহূর্তগুলো কে নিজের করে নিতে পারল, তার ওপরই নির্ভর করে সেরার মুকুট। আর মাঠের ভেতরে সেই বিশেষ মুহূর্তগুলো তৈরি করার ক্ষেত্রে লিওনেল মেসির চেয়ে বড় জাদুকর ফুটবল বিশ্বে আর কে আছেন!
সময়ের আলো/জেডি