মদরিচের শেষ নৃত্যে নতুন স্বপ্ন ক্রোয়েশিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে হতাশাজনক পরাজয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচে শুরু থেকেই শক্তিশালী ইংলিশ আক্রমণের চাপে পড়ে

2026-06-23T05:42:27+00:00
2026-06-23T05:42:27+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
খেলা
মদরিচের শেষ নৃত্যে নতুন স্বপ্ন ক্রোয়েশিয়ার
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৪২ এএম 
লুকা মদরিচ। সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে হতাশাজনক পরাজয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচে শুরু থেকেই শক্তিশালী ইংলিশ আক্রমণের চাপে পড়ে যায় তারা। প্রথমার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে গতি, শারীরিক শক্তি ও উচ্চ প্রেসিংয়ের সামনে ভেঙে পড়ে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ। মাঝমাঠে লুকা মদরিচ ও মাতো কোভাচিচ অভিজ্ঞতা দিয়ে খেলায় নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করলেও ইংল্যান্ডের দ্রুত ট্রানজিশন ও ফিনিশিংয়ের সামনে তারা কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত চার গোল হজম করে মাঠ ছাড়ে দালিচের দল।

এই হারের কারণে ক্রোয়েশিয়া এখন গ্রুপে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে। টানা হার এড়াতে না পারলে নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ আরও জটিল হয়ে উঠবে, তাই পরবর্তী ম্যাচ তাদের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। অন্যদিকে একই গ্রুপে ঘানার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শুরু করেছে পানামা। ম্যাচে তারা রক্ষণে বেশ সংগঠিত ছিল এবং দীর্ঘ সময় ঘানার আক্রমণভাগ আটকে রাখতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে আন্তোইন সেমেনিও ও জর্ডান আয়ুরকে নিয়ন্ত্রণে রাখায় তারা ম্যাচে টিকে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে উচ্চ প্রেসিংয়ের চাপ সামলাতে না পেরে ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে গোল হজম করে তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধে পানামা কোনো শটই নিতে পারেনি কিন্তু ম্যাচের বড় অংশে তারা রক্ষণাত্মকভাবে ভালো অবস্থানেই ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানার একমাত্র অন-টার্গেট শটটিই আসে গোল আকারে, যা একটি সেট-পিসের পর। ফিফা র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী ক্রোয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বের ১১ নম্বরে অবস্থান করছে, যেখানে পানামা রয়েছে ৩৪ নম্বরে। এই র‌্যাঙ্কিং পার্থক্য দুই দলের শক্তিমত্তার ব্যবধান স্পষ্ট করে দেয়।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অভিজ্ঞ ও টেকনিক্যাল মিডফিল্ড ইউনিট। লুকা মদরিচ এখনও দলের নেতৃত্বে আছেন, সঙ্গে কোভাচিচ ও মারিও পাশালিচ মাঝমাঠে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেন। আক্রমণে আন্দ্রেই ক্রামারিচ ও ইভান পেরিসিচ সুযোগ তৈরি ও ফিনিশিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে উচ্চ প্রেসিং ও শারীরিক গতির বিপক্ষে তাদের দুর্বলতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে।

পানামার শক্তি মূলত রক্ষণভিত্তিক শৃঙ্খলা ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। থমাস ক্রিস্টিয়ানসেনের দল সাধারণত তিনজনের ডিফেন্সিভ লাইন ব্যবহার করে এবং উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণে যায়। তবে বড় ম্যাচে গোল করার সুযোগ তৈরি করা তাদের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

সবমিলিয়ে এই ম্যাচে কাগজে-কলমে ক্রোয়েশিয়া স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও পানামাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ম্যাচের শুরুতে তারা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করবে কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মানের কারণে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের দিকেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়া আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। লিওনেল মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সে ম্যাচে পুরোপুরি ছন্দ হারায় উত্তর আফ্রিকার এই দলটি। আক্রমণভাগ কার্যকর হতে ব্যর্থ হয় এবং রক্ষণভাগের কয়েকটি ভুলে বড় ব্যবধানে হার মানতে হয়। অন্যদিকে জর্ডান নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে যায়। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখে, যা তাদের সম্ভাবনার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে আলজেরিয়া তুলনামূলকভাবে এগিয়ে, তাদের অবস্থান ২৮-এ। জর্ডান রয়েছে ৬৩ তে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াড গভীরতার দিক থেকেও আলজেরিয়া এগিয়ে।

আলজেরিয়ার তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ এবং ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আমোরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মাহরেজের ইউরোপিয়ান অভিজ্ঞতা এবং আমোরার গোল করার দক্ষতা দলকে আক্রমণে বাড়তি শক্তি যোগায়। জর্ডানের ভরসা আলি অলওয়ান ও মুসা আল তামারি দুজনই আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র। অলওয়ান ইতিমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে ৩০টির বেশি গোল করেছেন, যা তার ধারাবাহিকতার প্রমাণ।


শক্তিমত্তার দিক থেকে আলজেরিয়া স্পষ্টভাবেই এগিয়ে। তাদের দলে ইউরোপিয়ান লিগে খেলা একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে এবং বড় ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতাও তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে জর্ডানের শক্তি হলো সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রক্ষণভাগে দুর্বলতা তাদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান ও সাম্প্র্রতিক ফর্ম বিবেচনায় আলজেরিয়াই ম্যাচের ফেভারিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, জর্ডানের দুর্বল রক্ষণ কাজে লাগিয়ে আলজেরিয়া একাধিক গোল আদায় করতে পারে। তবে জর্ডানের লড়াইয়ের মানসিকতা ও অপ্রত্যাশিত চাপ তৈরির ক্ষমতা ম্যাচে চমকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সবমিলিয়ে অভিজ্ঞতা, আক্রমণ শক্তি ও স্কোয়াড গভীরতায় এগিয়ে থাকায় আলজেরিয়াই এই ম্যাচে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সম্ভাবনাময় দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও জর্ডানের লড়াই সহজে শেষ হওয়ার মতো নয়।

সময়ের আলো / আরবিএন


  বিষয়:   লুকা মদরিচ  ক্রোয়েশিয়া 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: