পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি

মো. ইলিয়াছ, কাপ্তাই (রাঙামাটি)

সারাদেশ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, হ্রদ, বনভূমি এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয় চোখে পড়ে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায়। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ

2026-06-23T04:20:23+00:00
2026-06-23T04:20:23+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
সারাদেশ
পর্যটনে অপার সম্ভাবনার হাতছানি
মো. ইলিয়াছ, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৪:২০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, হ্রদ, বনভূমি এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয় চোখে পড়ে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায়। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে আন্তর্জাতিক গন্তব্য। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, কাপ্তাই হ্রদ, লুসাই কন্যা কর্ণফুলী, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কর্ণফুলী পেপার মিল লিমিটেড, ওয়াগগা টি লিমিটেড, ঝরনা এবং নান্দনিক বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি পর্যটন স্পটকে ঘিরে প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের আগমন ঘটে কাপ্তাইয়ে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে কাপ্তাই শুধু দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে না, দেশের বাইরে থেকেও বহু পর্যটক আসবেন এখানে।

এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাইয়ের পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি আইনকানুন শিথিল করে বিনিয়োগের পন্থা সহজ করতে হবে। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন আরও বলেন, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয় এই অঞ্চলের অসচ্ছল জনগণকে ঋণ দিয়ে পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে পারে।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে কাপ্তাই উপজেলায়। এখানে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অনেক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পরিবেশের ক্ষতি না করে এখানে আরও পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সরেজমিন কথা হয় কাপ্তাইয়ের শিলছড়িতে অবস্থিত বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত জনপ্রিয় পর্যটন স্পট নিসর্গ রিভার ভ্যালি অ্যান্ড পড হাউসের পরিচালক মো. আফছার এবং শিলছড়ি বনশ্রী পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আক্তারের সঙ্গে। এ সময় তারা বলেন, কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতিক সম্পদ, পাহাড়ি সংস্কৃতি, হ্রদকেন্দ্রিক বিনোদন এবং ইকো-ট্যুরিজমকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাপ্তাই আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

কাপ্তাই লেকের মাঝে গড়ে তোলা রাইংখ্যং আইল্যান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, কটেজ তৈরি করে এখানে পর্যকটদের আকর্ষণ করতে হবে। তা হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদ পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। সবুজ পাহাড়ঘেরা বিশাল জলরাশি, দ্বীপসদৃশ টিলা, নৌভ্রমণ এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে বোটিং, স্পিডবোট ভ্রমণ, জলক্রীড়া এবং প্রকৃতি উপভোগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ভান্ডার। পাহাড়ি বন, বন্যপ্রাণী, পাখির সমাহার এবং ট্রেইলভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ থাকায় এটি ইকো-ট্যুরিজমের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশ নৌভ্রমণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাহাড়ি সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে এখানে আসেন। পর্যটকদের অনেকেই বারবার কাপ্তাই ভ্রমণের আগ্রহ প্রকাশ করেন যা এ অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনার শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে।

কাপ্তাই ফ্লোটিং প্যারাডাইসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট স্কাউট পদকপ্রাপ্ত পর্যটন উদ্যোক্তা হাজি মু. মঈনুদ্দিন জুয়েল বলেন, অপার পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে কাপ্তাই ঘিরে। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না। রূপের রানী রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ের নৈসর্গিকতা মহান আল্লাহর এক অপরূপ সৃষ্টি। প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতে আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে চাইলে কাপ্তাই আসতে হবে। কাপ্তাই লেক থেকে শুরু করে ওয়াগগা ছড়া চা বাগান, কর্ণফুলী নদী ও এর দুই পাশে অবস্থিত রাম-সীতার পাহাড় কিংবা ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্ট ফ্লোটিং প্যারাডাইসে দাঁড়িয়ে যে অপরূপ দৃশ্য দেখা যায় তা সুইজারল্যান্ডের সৌন্দর্যের চেয়ে কোনো অংশেই কম না। 

এসব সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আরও বেশি আকর্ষণ করার জন্য পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি অতি জরুরি। এ জন্য সরকারকে আরও আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী নদীর দুই পাশে রাম-সীতার পাহাড়ে ক্যাবল কার স্থাপন, কর্ণফুলীর ভাঙন প্রতিরোধ করে নদীর পাড়ে জারুল, কদম ইত্যাদি ফুলের গাছ লাগানো, পর্যটন হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব টুরিস্ট পুলিশ সেবা নিশ্চিতকরণসহ কাপ্তাই লেকের দ্বীপের মধ্যে নিরাপদ রিসোর্ট তৈরি, কাপ্তাই জেটি ঘাটকে আরও সুন্দর করে হোটেল-মোটেল জোন করা, ওয়াগগা থেকে শুরু করে শিলছড়ি ও সীতার ঘাট ঘিরে বেসরকারি যেসব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে তার দুই পাশে লাইটের ব্যবস্থা করা হলে পর্যটকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 



  বিষয়:   রাঙামাটি  কাপ্তাই 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: