পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ঘুষ নেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তাকে বুধবার (২৪ জুন) অপরাহ্নের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) বলে গণ্য হবেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হচ্ছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ের একটি টিম সরেজমিনে দেবীগঞ্জে এসে পুরো বিষয়টি তদন্ত করবেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২২ জুন) দুপুরে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের ঘুষ বাণিজ্যের ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও তার কার্যালয়ে বসে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন নির্ধারণ করছেন।
ভিডিওতে পিআইওকে ক্যালকুলেটর চেপে এক মেম্বারের প্রকল্পের ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার ১৫ শতাংশ হিসেবে ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ নির্ধারণ করতে দেখা যায়। মেম্বার টাকা কমানোর অনুরোধ করলে হাসতে হাসতে পিআইওকে বলতে শোনা যায়, ‘মেম্বারদের কোনোদিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’ ভিডিওর শেষ দিকে তাকে ১ লাখ ৬২ হাজার এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতেও বড় অংকের কমিশন দাবি করতে এবং টাকা বুঝে নিতে দেখা যায়।
দফতরে বসে এমন কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণের মুখে এই কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের খবরে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সচেতন মহলের দাবি, কেবল বদলি নয়, তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সময়ের আলো/মহু