ব্যাটারিচালিত মালবাহী ইজিবাইকের স্টিয়ারিং হাতে এক শিশু। সড়কে ছোট-বড় অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে সে, স্থানীয়রা আশঙ্কা করছিলেন যেকোনো সময় দুর্ঘটনা কবলিত হতে পারে শিশুটি। সম্প্রতি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও বাজার সংলগ্ন সড়কে দেখা মেলে এই দৃশ্যের।
শুধু কাকাইলছেও বাজারই নয়, শিশু-কিশোরদের যানবাহন চালানোর এমন দৃশ্য এখন উপজেলার সর্বত্র। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। লাইসেন্স ছাড়াই শিশু-কিশোররা চালাচ্ছে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার যানবাহন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই যাত্রী নিয়ে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে তারা। অদক্ষ এসব চালকের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কে থাকেন যাত্রী ও পথচারীরা। তিন চাকার এসব যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং যাত্রী ও মালবাহী ইজিবাইক।
সরেজমিন আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা গেছে, তিন চাকার গাড়ি চালকদের বড় একটি অংশ শিশু ও কিশোর। যাত্রী তোলা ও গন্তব্যে আগে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। বেপরোয়া গতিতে চালানো এসব যানবাহনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভাব-অনটনের তাড়নায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর অনেক শিশুর শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে গিয়ে তারা অকালেই জীবিকার সন্ধানে নেমে পড়ে। কেউ শ্রমিক, কেউ দোকানের কর্মচারী, আবার কেউ হাতে তুলে নিচ্ছে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের স্টিয়ারিং। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার নতুন ঝুঁকি।
অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে যানজট বাড়ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কিন্তু এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও অভিযান না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সচেতন মহলের দাবি, মোটরযান আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কারও যানবাহন চালানোর সুযোগ না থাকলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দেওয়া মালিক ও অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রহণ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন