রাজশাহীর পুঠিয়ায় পেঁয়াজের চাষ করে দাম না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উঠছে না উৎপাদন খরচ। ফলে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন ওই অঞ্চলের কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় বর্তমান বাজারমূল্য এতোই কম যে, প্রতি মণ পেঁয়াজে কৃষকদের ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত সরবরাহের তুলনায় সংরক্ষণাগারের অপ্রতুলতা এই দরপতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।
কৃষকদের যেখানে উৎপাদন খরচ প্রতি মণ ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা, সেখানে স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১,১০০ টাকায়। অর্থাৎ, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫ থেকে ২০ টাকা দরেও বিক্রি করতে হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে বিগত বছর গুলোতে পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ ও বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার ফলে এই ধস নেমেছে।
এছাড়াও কৃষকদের বাসায় সংরক্ষিত পেঁয়াজে পচন ধরা শুরু করায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এই লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে হলে সার এবং কীটনাশকের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করে কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে, অনেকটাই লোকসান কম হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা বা লাভ হওয়ার আশাও করেন তারা।
পুঠিয়া উপজেলার পেঁয়াজ চাষী আজিজুল ইসলাম এবছর ৪ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। তার বাসায় সংরক্ষণ করা পেঁয়াজের পচন ধরা শুরু করেছে বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে তাই। তিনি জানান, পেঁয়াজ চাষ করে এ বছর তার লোকসান হয়েছে। কাঁচা পেঁয়াজ বিক্রি না করে দাম বৃদ্ধির অপেক্ষায় থেকে পেঁয়াজ শুকিয়ে গিয়ে, ওজন আরো কমে গিয়ে, আরো বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি। এমন কৃষকদের সংখ্যাও কম নয়।
উপজেলার আরেকজন কৃষক আব্দুস সালাম তিনি বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি আমার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকার বেশি। এখন এই খরচের টাকাই আবার উঠবে না। সার এবং কীটনাশকের দাম কম থাকলে আবাদ ফসল করতে মন চায়। সার ঔষধের যে দাম তাতে আর কোনো ফসল করতেই মন চায় না। তবুও কষ্ট করে করছি লাভের আশায়।
আজাদ আলী নামের আরেকজন কৃষক বলেন, আমি সোয়া বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছিলাম বাজারের যে অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে অর্ধেক টাকা লস এর মধ্যে থাকতে হবে।
এসব বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী বলেন, বর্তমানে পেঁয়াজের উৎপাদন ও বাজারে যোগান বেশি থাকা দাম কম পাচ্ছেন কৃষকরা।
রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোঃ সানোয়ার হোসেন বলেন, রাজশাহীর মধ্যে পুঠিয়া দুর্গাপুর তাহেরপুর সেখানে খুব ভালো পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এবং পুঠিয়ায় পেঁয়াজের উৎপাদন খরচটা একটু বেশি হয়। আমরা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সরাসরি দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারিনা। ছাড়াও ওই তিন উপজেলায় প্রায় ১০০ টি পেঁয়াজ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কৃষকদের মাঝে ঘর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য কাজ করছি আশা করি কৃষকরা সামনে ভালো একটা দাম পাবেন।
সময়ের আলো/আতা