নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কর্মরতদের মধ্যে কতজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় - তার তালিকা চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রোববার (৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে সরাসরি এ তালিকা দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম মান্নান অভিযোগ করে বলেন, "গত ৫ আগস্টের আগে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালগঞ্জের পুলিশ সদস্যদের দিয়ে পূর্ণ ছিল। এখনও ঘুরেফিরে একই ঘটনা ঘটছে। তারা পদে থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে স্বাভাবিক হবে? তারা কি আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে? ডিসি ও এসপি সাহেবের কাছে আমাদের দাবি - কোন থানায় কোন কর্মকর্তা বা সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের কার বাড়ি কোথায়, তার একটি স্বচ্ছ তালিকা আমাদের দিতে হবে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি নদীপথে চাঁদাবাজি ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। নদীপথের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, "মেঘনা বা আশপাশের নদ-নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড ঢোকার আগেই চাঁদা তোলা শুরু হয়ে যায়। এমনকি মোবাইলেও চাঁদার লেনদেন হচ্ছে। এই অপকর্মের সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা সরাসরি জড়িত।"
এ ছাড়া নিজের নির্বাচনি এলাকা সোনারগাঁয়ে ব্যাপক অবৈধ গ্যাস সংযোগের পেছনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন তিনি। এমপি মান্নান সতর্ক করে বলেন, "সোনারগাঁয়ে প্রায় ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে, যা বিগত সরকারের আমলে দেওয়া হয়েছিল। এসব বেআইনি সংযোগের বিরুদ্ধে মামলা হলে তিতাসের কর্মকর্তাদেরই এক নম্বর আসামি করা উচিত। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।"
উক্ত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অন্যান্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/টিকে