মাঠে নামলেন, গোল করলেন এবং আরও একবার ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওলটপালট করে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। চলমান বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটেই জালের দেখা পান এই পর্তুগিজ মহাতারকা। আর এই গোলের সূত্র ধরেই পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের মহানায়ক ইউসেবিও-র পাশে নিজের নাম লেখালেন সিআরসেভেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি রোনালদোর নবম গোল। এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে কিংবদন্তি ইউসেবিওর সমকক্ষ হলেন তিনি। তবে রেকর্ড এখানেই থামেনি। ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে গোল করে আজ এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই কিংবদন্তি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় বয়োজেষ্ঠ্য গোলদাতা এখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার ওপরে আছেন কেবল ক্যামেরুনের রজার মিলা, যিনি ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে রাশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছিলেন। একই সাথে ইউরোপের ফুটবল ইতিহাসে যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) সবচেয়ে বয়োজেষ্ঠ্য গোলদাতার রেকর্ডটিও এখন রোনালদোর দখলে।
টেক্সাসের হিউস্টনের মাঠে ম্যাচ শুরুর ১৪ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে পেদ্রো নেতোর ওপর উজবেক ডিফেন্ডার খামরোবেকভ ফাউল করলে রেফারি ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বুক ফুলিয়ে রোনালদো যখন ফ্রি-কিক নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে শুরু করে উজবেক গোলরক্ষক নেমাতভ—সবার চোখ ছিল সিআরসেভেনের ওপর।
কিন্তু ম্যাচের ১৭ মিনিটে দেখা গেল এক মাস্টারস্ট্রোক। সবাইকে চমকে দিয়ে রোনালদো ফ্রি-কিকটি না নিয়ে ছেড়ে দেন সতীর্থ নুনো মেন্দেসের জন্য। উজবেক প্রাচীরকে ফাঁকি দিয়ে মেন্দেসের নেওয়া মাটি ঘেঁষা বাঁ-পায়ের নিখুঁত শটটি সোজা জড়িয়ে যায় জালে। হিউস্টনের গ্যালারির কেউই হয়তো এমন চাতুর্য আশা করেনি। ফলে খেলা শুরুর ১৭ মিনিটের মাথাতেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় পর্তুগাল। ইউসেবিওকে ছোঁয়ার দিনে রোনালদোর এই বুদ্ধিমত্তা ও পর্তুগিজদের আক্রমণাত্মক ফুটবল বিশ্বমঞ্চে তাদের হেক্সা মিশনের জানান দিচ্ছে বেশ ভালোভাবেই।
সময়ের আলো/কহু