ইতিহাসের পর ইতিহাস! টেক্সাসের হিউস্টনে আজ যেন কেবলই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে পর্তুগাল। আর এই স্বপ্নের প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনন্য কীর্তি অর্জন করলেন সিআরসেভেন।
ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর চমৎকার ক্রস থেকে নিয়ার-পোস্টে নিখুঁত শটে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমেই তিনি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েন। এরপর ১৭ মিনিটে ফ্রি-কিকের চাতুরিতে নুনো মেন্দেসকে দিয়ে করান দলের দ্বিতীয় গোল।
তবে আসল চমক তখনও বাকি ছিল। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের রক্ষণচেরা পাস ধরে ডি-বক্সের কোণাকুণি শটে উজবেকের জাল কাঁপান ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। আর এই গোলের সাথে সাথেই বিশ্বকাপে নিজের ১০ম গোল পূর্ণ করে কিংবদন্তি ইউসেবিওকে (৯ গোল) টপকে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের শীর্ষ আসনটি নিজের করে নেন রোনালদো।
ম্যাচে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল উজবেকিস্তান। গানিভের নেওয়া এক দূরপাল্লার বুলেট গতির শট পর্তুগালের গোলপোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতেছিল তারা। তবে বিল্ড-আপে ফাউল থাকার কারণে ভিএআর রিভিউতে সেই গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৬ মিনিটে) হ্যাটট্রিকের একদম দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন সিআরসেভেন। জোয়াও ক্যানসেলোর লো-ক্রস থেকে বল পেয়ে উজবেক গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করেছিলেন তিনি। কিন্তু একেবারে গোললাইন থেকে ডিফেন্ডার খুসানভ বলটি ক্লিয়ার করলে প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন রোনালদো। ৩-০ ব্যবধানের বড় লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া পর্তুগাল এখন ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে আরও বড় জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামার অপেক্ষায়।
সময়ের আলো/কহু