১৮ হাটবাজারে অবরুদ্ধ মহাসড়ক

মেজবাহ উদ্দীন খালেদ সীতাকুণ্ড

সারাদেশ

সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে যাতায়াত মানেই যেন এক অনিশ্চিত যাত্রা। ৪২ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ১৮টি হাটবাজার যানজট ও দুর্ঘটনার

2026-06-24T03:44:18+00:00
2026-06-24T03:44:18+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
১৮ হাটবাজারে অবরুদ্ধ মহাসড়ক
মেজবাহ উদ্দীন খালেদ সীতাকুণ্ড
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ এএম 
প্রতীকী ছবি
সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে যাতায়াত মানেই যেন এক অনিশ্চিত যাত্রা। ৪২ কিলোমিটার মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ১৮টি হাটবাজার যানজট ও দুর্ঘটনার স্থায়ী কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসন রাজস্ব আয়ের অজুহাতে হাটবাজারগুলোকে বৈধতা দিলেও এর ফলে সৃষ্ট চরম ভোগান্তি আর প্রাণহানির দায় এড়াতে পারবে না কেউ।

সরেজমিন দেখা যায়, বড়দারোগারহাট, ছোট দারোগারহাট, ফকিরহাট, শুকলাল হাট, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কৌট্টা বাজার, কুমিরা, বগুলা বাজার, মদনহাট, মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী, বানুর বাজার, জলিল গেট বাজার, ফৌজদারহাট ও পাক্কা রাস্তার মাথাসহ ১৮টি স্থানে মহাসড়কের কোল ঘেঁষে চলছে বাণিজ্য। নিয়ম অনুযায়ী মহাসড়কের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনা বা বাজার থাকার কথা না থাকলেও এখানে তার উল্টো চিত্র।

উপজেলা প্রশাসন বাজার ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করলেও যানজট নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সীতাকুণ্ডের ইউএনও মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দাবি করেন, ইজারাদারদের জনভোগান্তি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বারো আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি আদিল মাহমুদ স্বীকার করেছেন যে, মহাসড়ক সংলগ্ন এই বাজারগুলো যানজট ও দুর্ঘটনার মূল হোতা। তবে কার্যকর মনিটরিং ও উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা স্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু সতর্কবার্তা দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মহাসড়কের শোল্ডারসহ পার্শ্ববর্তী সব অবৈধ দখল অবিলম্বে উচ্ছেদ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব মহাসড়ক থেকে অন্তত কয়েকশ ফুট ভেতরে বাজারগুলো সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে সার্ভিস লেন ও যাত্রী পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা। তা ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বাজার এলাকায় নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইদুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহাসড়কের শোল্ডারটুকু আজ দখলদারদের দখলে। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের জন্য এক ইঞ্চি জায়গা খালি থাকে না। আমাদের জীবনের মূল্য কি ইজারাদারদের রাজস্বের চেয়ে কম? মিনিবাস চালক ফকির আহম্মদ বলেন, এই বাজারগুলোর কারণে আমাদের গাড়ির গতি যেমন কমে যায়, তেমনি যেকোনো সময় পথচারী চাপা পড়ার ভয় থাকে। মহাসড়ক কি বাজার করার জায়গা? কর্তৃপক্ষের দায়সারা সিদ্ধান্তে আমাদের প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট পোহাতে হচ্ছে। 


কুমিরা বাজারের ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন যদিও ব্যবসায়িক সুবিধার কথা তুলে ধরেন, তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী মনে করেন পরিকল্পিত অবকাঠামো ছাড়া এভাবে মহাসড়কের ওপর ব্যবসা চালানো আত্মঘাতী। বাঁশবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সালাউদ্দীন বলেন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বাজারগুলোকে মহাসড়ক থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয় তবে দুর্ঘটনার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে সচল ও নিরাপদ রাখতে এখন দায়সারা প্রশাসনিক নির্দেশের চেয়ে প্রয়োজন কঠোর ও দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ। সীতাকুণ্ডের ৪২ কিলোমিটার এখন আর বাজারের দখলে থাকার সুযোগ নেই, বরং এটি হোক নিরাপদ যাতায়াতের একটি সুশৃঙ্খল পথ।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   হাটবাজার  অবরুদ্ধ  মহাসড়ক 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: