গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে (২৪) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে সাঘাটা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পবিত্র কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার (২১ জুন) বিকেলে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলাকার একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বই এই হামলার মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলায় গুরুতর আহত সাইফুল্লাহকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সাইফুল্লাহ বারী উপজেলার শিমুলতাইড় গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
সোমবার (২২ জুন) রাতে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ পরিদর্শক পবিত্র কুমার জানান, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিসহ পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মামলায় উল্লিখিত আসামি এবং একজন সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার।
গ্রেফতারকৃতরা বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের আশরাফ খন্দকার, শিমুলতাইড় গ্রামের রবিউল ইসলাম, বোনারপাড়া গ্রামের শাহ আলম এবং সন্দেহভাজন হিসেবে বোনারপাড়া এলাকার মোফাজ্জল হোসেন। তবে মামলার প্রধান আসামি মুকুল মিয়া এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
একই হামলায় শিবির কর্মী সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে সোমবার রাত একটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
সময়ের আলো/আতা