বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত বোয়ালখালীর কৃষক

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা। মাথায় হাত পড়েছিল কৃষকের। নতুন করে বীজতলা তৈরি করে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর

2026-08-08T16:49:55+00:00
2026-08-08T16:52:16+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত বোয়ালখালীর কৃষক
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৯ পিএম  আপডেট: ০৮.০৮.২০২৬ ৪:৫২ পিএম
আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক। ছবি : সময়ের আলো
বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা। মাথায় হাত পড়েছিল কৃষকের। নতুন করে বীজতলা তৈরি করে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করেন তারা। সরকারি প্রণোদনা ও নিজেদের উদ্যোগে সেই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে এখন মাঠে আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত বোয়ালখালীর কৃষক। 

উপজেলার বিভিন্ন বিল ও ফসলের মাঠে এখন দেখা যাচ্ছে আমনের চারা রোপণের দৃশ্য। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ আঁটি বেঁধে চারা নিয়ে ছুটছেন জমির দিকে। আবার কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪৯ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়া, ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতোমধ্যে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। 

আমনের চারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। ছবি : সময়ের আলো

আমনের চারা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষক। ছবি : সময়ের আলো


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলা পুনরায় তৈরিতে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকেরা সময়মতো আমন আবাদে ফিরতে পেরেছেন।’

কৃষি বিভাগ জানায়, এবার বোয়ালখালীতে ব্রি ধান-২২, ব্রি ধান-২৩, ব্রি ধান-৫২ ও ব্রি ধান-৫৭সহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি সিনজেনটার বিভিন্ন হাইব্রিড জাতও চাষ করছেন কৃষকেরা। 

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আগস্টজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে রোপণ শেষ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধান কাটা শুরু হতে পারে। 

তবে, মাঠে সবুজের সমারোহ ফিরলেও কৃষকের মুখে স্বস্তি নেই। চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন শেষে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। 


জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম ৩ কানি বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন। তার হিসাবে, গত বছর প্রতি কানি (৪০ শতক) জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। এর সঙ্গে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। 

খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রতি কানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও, বাস্তবে ৬০ আড়ির বেশি পাওয়া কঠিন। উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, তাতে ধান বিক্রি করে লাভ কতটা থাকবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।’ 

একই এলাকার কৃষক সুবল দে ৫ কানি বর্গা জমিতে সাদা পানজা ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রতি কানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা তার। তবে, দীর্ঘদিন কৃষিকাজ করেও এখন লাভের মুখ দেখছেন না বলে জানান তিনি। 

সুবল দে বলেন, ‘চাষ করে এখন আর লাভ হচ্ছে না, বরং অনেক সময় লোকসান হয়। তারপরও অন্য কোনো কাজ জানা নেই। তাই প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই সংসার চালাচ্ছি।’ 

বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে যখন নতুন করে ফসলের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা, তখন আমুচিয়া এলাকায় তাদের নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে বন্য হাতি। 

কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে সন্ধ্যার পর ৩ টি বন্য হাতি আমুচিয়া রাবার বাগান এলাকা থেকে লোকালয়ে নেমে আসছে। পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। হাতির পাল বীজতলা ও রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করছে। 

কৃষক বাবুল বলেন, ‘সন্ধ্যার পর হাতির ভয়ে জমিতে পাহারা দিতে হয়। অনেক চেষ্টা করেও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। হাতির দল বীজতলা ও নতুন রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করে ফেলছে। এতে কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   বন্যা  আমন  চারা  রোপণ  বোয়ালখালী  চট্টগ্রাম  কৃষক  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: