আল্পসের নীরব শীতলতা আর লাতিন আমেরিকার আগুনে সমর্থনের উষ্ণতা যেন এক বিন্দুতে এসে মিলেছে ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে এস্তাদিও বানর্তেতে তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, শুরু হতে যাচ্ছে টিকে থাকা আর বিদায়ের সূক্ষ্ম সীমারেখা টানার লড়াই। চেক প্রজাতন্ত্র ও মেক্সিকো দুই ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতি, দুই ভিন্ন বাস্তবতা কিন্তু একই লক্ষ্য- কাপের পরবর্তী অধ্যায়।
প্রথম দুই ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র বা রেপ্রে বাহিনীর পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তারা ২-১ গোলে হারে, যেখানে লিড নিয়েও মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল খেয়ে বসে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে ১-১ ড্র করলেও শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করে। ফলে দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট এবং গ্রুপে অবস্থান তৃতীয়।
অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো দুর্দান্ত ছন্দে আছে। তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরু করে এবং এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। দুই ম্যাচেই ক্লিন শিট রেখে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। এই পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস আরও শক্ত করেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিং বিবেচনায় মেক্সিকো ১৪তম, যেখানে চেক প্রজাতন্ত্র অবস্থান করছে ৪০ র্যাঙ্কিংয়ে। যদিও এই ব্যবধান বড়, তবে বিশ্বকাপের ম্যাচে ফর্মই অনেক সময় আসল পার্থক্য গড়ে দেয়। চেক প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে বড় তারকা স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক, যিনি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
মিডফিল্ডে অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচি দলের ভারসাম্য ও নেতৃত্ব দেন। মেক্সিকোর দলে আক্রমণের মূল ভরসা হ্যাভিয়ের হিমেনেজ এবং হুলিয়ান কুইনোনেস, আর মাঝমাঠে এদসন আলভারেজ দলের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের সংগঠিত ডিফেন্স এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। দুই ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম না করে জিতেছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্র আক্রমণে সাহসী হলেও রক্ষণভাগে দুর্বলতা স্পষ্ট, বিশেষ করে লিড ধরে রাখতে না পারা তাদের বড় সমস্যা। সব মিলিয়ে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ট্যাকটিক্যাল ও সতর্ক এক লড়াই। চেকরা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলবে কারণ তাদের জয় ছাড়া বিকল্প নেই আর মেক্সিকো চাইবে নিজেদের পারফেক্ট রেকর্ড ধরে রাখতে। ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং ডিফেন্সিভ দৃঢ়তার কারণে স্বাগতিকরাই সামান্য ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে।
গ্রুপের আরেক ম্যাচে মন্টেরি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা আর দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করে। ওই ম্যাচে তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায়, যেখানে একটি গোলকিপিং ভুল তাদের মূল্য দিতে হয়। এখন তারা ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে ভালো অবস্থানে আছে এবং এই ম্যাচ জিতলেই নকআউট নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে এখনও জয় পায়নি।
প্রথম ম্যাচে তারা মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হারে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে ১-১ ড্র করে। শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে তারা গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারায়। ফলে দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট এবং এই ম্যাচ তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কোরিয়া ২৫তম আর দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থান ৬০-এ। ব্যবধান মূলত অভিজ্ঞতা ও ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে কোরিয়ান খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের কারণে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তি হলো দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স এবং টেকনিক্যাল মিডফিল্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তি হলো শারীরিক শক্তি ও দলগত সংগঠন তবে গোল করার ধারাবাহিকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুল তাদের বড় দুর্বলতা।
সময়ের আলো/এসএকে