কিলিয়ান এমবাপে যখন নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তখন তাকে থামানো যে কতটা কঠিন, তা আবারও প্রমাণ হলো ইরাকের বিপক্ষে। শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে জোড়া গোল করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপপর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। বলের দখল ও আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ইরাককে চাপে রাখে তারা। সেই চাপের ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের ১৪ মিনিটে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। এমবাপের নেওয়া শট ইরাকের এক ডিফেন্ডার পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বল চলে যায় মাইকেল অলিসের কাছে। তিনি দ্রুত ব্যাকপাসে খুঁজে নেন এমবাপেকে। সুযোগ পেয়ে কোনো ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও অর্জন করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ফ্রান্স। অন্যদিকে ইরাকও ফরাসি রক্ষণভাগকে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ইরাকের গোলরক্ষক বাসিলের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় গোল পায় তারা। গোল কিক নিতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান বাসিল। বল চলে যায় ওসমান দেম্বেলের কাছে।
তিনি দ্রুত ফাঁকায় থাকা এমবাপের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। সামনে একজন ডিফেন্ডার থাকলেও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেন এমবাপে। এতে তিনি স্পর্শ করেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার গোলসংখ্যার রেকর্ড। এখন তার সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল ইরাক। তবে ফ্রান্সের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বরং ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় ফরাসিরা। আক্রমণের সূচনা করেন মাইকেল অলিসে। তার নিখুঁত পাস পেয়ে ডি-বক্সের ডান দিক দিয়ে এগিয়ে যান দেম্বেলে। এরপর দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন এমবাপে। প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একাই এগিয়ে যান তিনি। পথে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলমুখে পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে তার শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে হ্যাটট্রিক মিসের আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসি অধিনায়ককে। টানা দ্বিতীয় জয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ম্যাচের আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দেশমের শিষ্যরা। আর এমবাপের দুর্দান্ত ফর্ম ফ্রান্সকে শিরোপার দৌড়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
সময়ের আলো/এসএকে