লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মা ও দুই মেয়ের পর ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন মেঝ মেয়েও। এদিকে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই নৃশংস ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৫), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সায়মা আক্তার (২১), মেঝ মেয়ে কলেজ শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)।
সর্বশেষ ইকরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মামুনুর রশিদ পলাশ। তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য ইকরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে দাউদকান্দি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্নচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। নিহত পরিবার তার পূর্ব পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহীনুর বেগম তার তিন মেয়ে সায়মা, ইকরা, সিফা ও ছেলে সিফাতকে নিয়ে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভবনে ভাড়া থাকতেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানাধীন লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী হাড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যায়।
অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও বছর খানেক আগে একই ভবনে ভাড়া ছিলেন। ঘটনার সময় শাহীনুর বেগমের ফ্লাট থেকে চিৎকারের শব্দ শোনে স্থানীয় লোকজন। পরে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে দেখতে পায়। এসময় শরীরে রক্তের দাগ নিয়ে অন্তর মজুমদার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ শাহীনুর বেগম ও তার দুই মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। এসময় গুরুতর আহত মেঝো মেয়ে ইকরাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। পথিমধ্যে মারা যায় সে।
ঘটনার পর ওই পরিবারে একমাত্র জীবিত রয়েছে ১৬ বছরের সিফাত। পাশ্ববর্তী একটি দোকানের কর্মচারী সে। সে জানায়, ঘটনার আগেই সকালের দিকে সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে তার সাথে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার গোয়েন্দা ও সিআইডি পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে কি কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/আতা