কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও ন্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ৬১ হিজরির ১০ মহররম, আশুরার দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হুসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ক্ষমতা বা যুদ্ধের জন্য বের হননি, বরং মুসলিম উম্মাহকে সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দিও না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।' (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪২)।
ইমাম হুসাইন (রা.) কোরআনের এই শিক্ষাকে বাস্তবে ধারণ করেছিলেন। অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ না করে তিনি সত্যের পক্ষে অবিচল থেকেছিলেন।
নবীজি (সা.) হুসাইন (রা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘হুসাইন আমার অংশ এবং আমি হুসাইনের অংশ। আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন, যে হুসাইনকে ভালোবাসে।’ (তিরমিজি)।
এই হাদিস ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মর্যাদা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
কারবালায় তৃষ্ণা, অবরোধ ও সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও ইমাম হুসাইন (রা.) ও তাঁর সঙ্গীরা ঈমান, ধৈর্য ও সাহসের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর শাহাদাত আমাদের শেখায়, সত্য ও ন্যায়ের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং জুলুমের কাছে কখনো মাথা নত করা যায় না। তাই কারবালা শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং যুগে যুগে সত্য, ন্যায় ও আত্মত্যাগের চিরন্তন শিক্ষা।
সময়ের আলো/এসএকে