দিনদুয়েক ধরে ফ্লোরিডায় আমেরিকার আদিবাসীদের মিউজিক ফেস্টিভ্যালে মজে আছি। ভরদুপুরে আয়োজিত হয়েছে ট্রেইল অব টিয়ারের স্মৃতিতে ড্রাম সার্কোলের। এ ট্রেইলের কাহিনি অনেক বছর ধরে শুনে আসছিলাম। ড্রাম সার্কোলের শুরুতে পাওয়ার পয়েন্ট দিয়ে স্ক্রিনে অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট হিসেবে কিছু ক্রিটিক্যাল তথ্য দেখানো হয়। ১৮৩০ সালে ইন্ডিয়ান রিমুভ্যাল অ্যাক্টের আওতায় এ অঞ্চল থেকে জোরপূর্বক বাস্তুহারা করা হয়েছিল পাঁচটি আদিবাসী তথা চিরোকী, ক্রিক, সিমিওনোল, চিকাসো ও চকতাও গোত্রের ষাট হাজার মানুষকে। যুক্তরাষ্ট্রের সৈনিকরা তাদের তাড়া করে নিয়ে গিয়েছিল শত শত মাইল দূরে মিসিসিপি নদীর পাড়ে, ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে। তীব্র অনাহার ও পথকষ্টে হাজার কে হাজার মাইলের ওই যাত্রায় মৃত্যু হয়েছিল ১৩ হাজার আদিবাসীদের। তাই এ পথপরিক্রমা ইতিহাসে ট্রেইল অব টিয়ার নামে পরিচিত।
এ ঘটনার স্মরণে চিরোকী, ক্রিক, সিমিওনোল, চিকাসো ও চকতাও গোত্রের প্রতিনিধিরা প্রকাণ্ড একটি ড্রামকে ঘিরে গোল হয়ে বসেছেন। এ ধরনের ঢোলকগুলো শামান-ড্রাম নামে পরিচিত। কোনো কিছুর ঘোষণা, যুদ্ধবিগ্রহ এবং সম্প্রদায়ের সমবেত স্মৃতিচারণেও এ ধরনের শামান-ড্রাম ব্যবহার করার রেওয়াজ আছে। ড্রিম ড্রিম করে আওয়াজ হতে থাকে, আর আমরা জানতে পারি যে জীবিত বাদকরা আজ কমিউনিকেট করছেন ট্রেইল অব টিয়ারে পথ চলতে গিয়ে নাহকভাবে প্রয়াত হওয়া পূর্বপুরুষদের আত্মার সঙ্গে।
ড্রামের বাদন শুরু হয়ে মৃদু হতে হতে এখন অ্যায়সা ঢিমেতালে বাজছে যে, মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। অডিয়েন্স থেকে কোনো শব্দ হয় না। তাবৎ মাইফেল যেন জাদুবলে নীরব হয়ে গেছে। ড্রাম-বিটকে এবার শোনায় অ্যামপ্লিফাই করা হার্টবিটের মতো। স্ক্রিনে পাওয়ার পয়েন্ট দিয়ে ফের দেখানো হচ্ছে ট্রেইল অব টিয়ারের সহস্র মাইলব্যাপী পায়ে চলা পথরেখার চিত্র। একটি তথ্য ভেসে ওঠে, হৃৎপিণ্ডের অনুকৃতিতে স্পন্দিত শব্দের ইন্টারপ্রিটেশন হিসেবে জানানো হয় যে, জীবিতরা ট্রেইলে সৈনিকদের তাড়নে হেঁটে যাওয়ার সময় অনাহার ও অসুখ-বিসুখে মৃতদের আত্মার সঙ্গে কমিউনিকেট করে বলছেন, তোমাদের আত্মদান বৃথা যায়নি, আমাদের রক্তস্রোতে আজও প্রবাহিত হচ্ছে তোমাদের জিন, আমরা বহন করছি তোমাদের ডিএনএ, বেঁচেবর্তে আছি আমরা, যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ প্রভাবিত মূলধারা আমাদের মুছে ফেলতে পারেনি। শুনো হে প্রয়াত পূর্বপুরুষ, কান পেতে শুনো, এ প্রজন্মের দ্রিপ দ্রিপ করা হৃৎপিণ্ডের আওয়াজ।
বাদনের তাল-লয় বৃদ্ধি পায়। আওয়াজে এবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শ্রোতা-দর্শকদের শোনিত। কি যেন এক প্রতিবাদ বিপুল শব্দে বিস্ফোরিত হচ্ছে। পর্দায় ফের ভেসে ওঠে তথ্য। আদিবাসীদের জন্মভূমি থেকে জোরপূর্বক মিসিসিপি নদীপাড়ের অনুর্বর বিরান ভূখণ্ডে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে ‘ফোর্সড রিলেকশন’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয় যে, চাকতাও পল্লীর আশপাশে আবিষ্কৃত হয়েছিল মূল্যবান খনিজ, তাই সরকার তাদের ভূসম্পত্তির হুকুম দখল নিয়েছিল। ওই ট্রেইল ধরে যেসব মানুষদের হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছিল, পথকষ্টের কাহিনিগুলো তাদের কবিয়ালরা প্রচলিত গাঁথায় ধরে রেখেছেন। একটি গাঁথার রেফারেন্স দিয়ে ফ্লোরিডার একটি আদিবাসী পল্লী থেকে চকতাও গোত্রের আদিবাসীদের বাস্তুচ্যুত করা ঘটনার সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরা হয়। পুরুষরা জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে বন্দি হয়েছিল সৈনিকদের হাতে। বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি তাদের। নারীদের কেউ কেউ রান্না করছিল, কোনো কোনো মহিলা সবজি বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিল। আদিবাসীদের ভাষা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধায় এরা সৈনিকদের ইংরেজি বুলি বুঝতে পারেনি। নারীদের শিশু কোলে নিয়ে ঘর ছাড়তে সৈনিকরা ইশারায় হুকুম দিলে, যেসব বিভ্রান্ত নারী হুকুম তামিলে অস্বীকার করেছিল, তাদের কয়েকজনকে অন দি স্পট ধর্ষণ করা হয়েছিল। এ বিবরণ এতই দুঃখজনক যে, পুরো বর্ণনা পড়ে প্রতিবাদকে প্রশমিত করে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে।
ড্রাম সার্কোলের তামাদি হতেই কোনো ধরনের ঘোষণা না দিয়ে ঘাসে বেঞ্চ পেতে বসে পড়েন চারজন আদিবাসী তরুণী। এদের হাতে ছোট আকারের হ্যান্ড-ড্রাম। এ প্রজন্মের আদিবাসী তরুণী চারজনের বেশভূষাও আধুনিক। এদের একজন মাইক্রোফোনে ট্রেইল অব টিয়ারের ঘটনা নিয়ে প্রচলিত গাঁথার উল্লেখ করেন। আদিবাসী নারীরা সন্তান নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পথশ্রম লাগবের জন্য সমবেতভাবে গান করতে করতে আগ বাড়তেন। এ ধরনের দলীয় সংগীতে যেসব নারী লিড করতেন তাকে আদিবাসীদের ভাষায় বলা হয় ‘নিতা নাগামকওয়ে’, যার ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে ‘লেডি হু নোজ হাউ টু সিং’। বেঞ্চে বসা চার তরুণী হ্যান্ড-ড্রাম বাজিয়ে ট্রেইলে প্রচলিত একটি গাঁথা গাইতে শুরু করেন।
হ্যান্ড-ড্রামের ঢিমেতাল বাদনের সঙ্গে মিলিয়ে খানিকটা বৌদ্ধ মন্দিরে উচ্চারিত চ্যান্টিংয়ের আদলে তারা জপছেন, ‘ওয়ে... হে... ইয়া... হে ইয়া অ... হু...।’ হাহাকারের মতো এ ধ্বনিপুঞ্জকে মুমূর্ষু সন্তানের দুর্বল হার্টবিটে উদ্বিগ্ন জননীর আহাজারির মতো শোনায়। কিছুক্ষণ ‘ ওয়ে... হে... ইয়া... হে ইয়া অ... হু...’ জপে তরুণী চারজন দম নিয়ে ব্যাকুল স্বরে বলে ওঠেন, ‘গনডাময়মিন ইনা সিজেমানিডো’, অডিয়েন্সের কিছু কিছু নারীও বিচিত্র উচ্চারণে তাদের স্বর মেশান। আমরা ফের স্ক্রিনে বাক্যটির ইংরেজি তর্জমা দেখি, ‘ক্যান ইউ হেল্প আস গ্রেট স্পিরিট?’ স্রষ্টার কাছে পথশ্রমে ক্লান্ত নারীদের প্রার্থনা যেন দর্শক-শ্রোতাদের অন্তরে প্রতিধ্বনিত হয়। তাদের কেউ কেউ দাঁড়িয়ে নেচে ওঠে ট্রেইলে পথচলা বিগত যুগের নারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
হ্যান্ড-ড্রামের বাদন এবার উতরোল হয়ে ওঠে। দর্শক-শ্রোতাদের অনেকেই নাচছেন আলাদা আলাদাভাবে। তাদের শরীরী সঞ্চালনে ফুটে উঠছে ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের নৃত্যশৈলী। কিছু নাচিয়ে দর্শক সমবেত নৃত্যে তৈরি করেছেন অর্ধবৃত্তের আকৃতি, তাতে শামিল হয়েছে বাচ্চারাও। তাদের সুরছন্দে ডায়নামিক দেহগুলোর দিকে তাকিয়ে ঠিক বুঝতে পারি না, শত বছর আগে আদিবাসীদের জীবনে ঘটে যাওয়া বেইনসাফের বিরুদ্ধে এরা কি নৃত্যে প্রকাশ করছেন প্রতিবাদ? নাকি তাদের মুদ্রায় বাক্সময় হয়ে উঠছে প্রার্থনার আকুতি।
নাচতে নাচতে একটি নারী দেহ বেশ খানিকটা বাঁকা হয়ে পরিসরে ছাড়াচ্ছে তার উচ্ছ্বসিত যৌবন। মেয়েটি পরে আছে গোলাপি রঙের সিল্কি সান-ড্রেস। আমার দিকে পেছন ফিরে নাচছে, তাই আমি তার মুখটি দেখতে পাই না, কিন্তু শরীরী মুদ্রার একটি নির্দিষ্ট ভঙ্গিকে ভারী চেনা মনে হয়। আমি উঠে পড়ি, নৃত্যরত এ নারীকে সম্মুখ থেকে এক নজর অবলোকন না করলে যেন চলছে না। আমি ঘুরে কয়েক কদম সামনে আসি। মুখটি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাই। চিনতেও কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু তৎক্ষণাৎ তার নামটি মনে পড়ে না। বড্ড অস্বস্তি হয়।
আজকাল মাঝেমধ্যে আমার বিস্মরণ হয়, এর একটা বিহিত করতে আমি দাঁড়িয়ে পড়ে মেয়েটির সঙ্গে কোথায় কোন পরিবেশে দেখা হয়েছিল তা ভাবতে শুরু করি। তার নাম মনে পড়ে না, তবে কবে-কোথায় তার সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম তা স্মৃতিতে ফিরে আসে। বছর দেড়েক আগের কথা, আমি সান্তাফ শহরে বাস করছি। উল্লেখযোগ্য কোনো পেশার সঙ্গে যুক্ত নই, তবে স্থানীয় কমিউনিটি কলেজে সপ্তাহে দুটি ক্লাস নিই। সকালের ক্লাসটি শেষ হয় এগারোটা নাগাদ। তারপর করার কিছু থাকে না। তাই ল্যাপটপ কাঁধে হেঁটে হেঁটে চলে আসি আগ্নেয়গিরির প্রস্তরিভূত ছাই মাখা পাহাড়টির উল্টো দিকের ঢালের অ্যান্ডিজ ক্যাফেতে। এখানে পাওয়া যায় কফি ও চিচা মরাডা নামে পেরু দেশের শীতল পানীয়।
নৃত্যরতা যে মেয়েটির নাম আমি এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না, সে ক্যাফেটির কাউন্টার সামলায়। ক্যাফেতে খদ্দের বলতে সান্তাফ নগরীর আদিবাসী নেটিভ আমেরিকান ফেরিওয়ালারা। সচরাচর তারা বসে না, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টেকআউটের অর্ডার করে, খাবারের প্যাকেট হাতে এলে বিল মিটিয়ে চলে যায় নগরীতে তাদের সওদা বিক্রির কাজে।
ভেতরের কামরাটির কোনার দিকে আছে দেয়ালে লাগানো একটি অ্যাকুরিয়াম। তার লাগোয়া টেবিলে আমি ল্যাপটপ পেতে বসি। মেয়েটি এক মগ চিচা মরাডা সামনে রেখে যায়। প্রতি সপ্তাহে আমি এখানে আসি, চেষ্টা করি টুকটাক কিছু লেখার।
চিচা মরাডা পানীয়টি এ দেশে এসেছে পেরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসীদের সঙ্গে। যে যবের মন্ডকে ফারমেন্ট করে চিচা তৈরি হয়, তার বর্ণ বেগুনি। জানতে পারি, মেয়েটির পিতামহ পেরু থেকে সান্তাফ এলাকায় এসেছিলেন কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কের অভারসিয়ার হিসেবে। তিনি পাহাড়ের পাদদেশে জমি কিনে তাতে চাষ করেছিলেন বেগুনি যবের। মেয়েটির বাবা কনস্ট্রাকশনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মানুষটি অ্যালকোহলিক, মাঝেমধ্যে তাকে দেখি, আঙিনা থেকে বেশ দূরে একটি জুনিপার গাছের ছায়ায় ফোমের মাদুর পেতে শুয়ে আছেন। তার বালিশের পাশে রাখা টাকিলার বোতলে রোদ পড়ে কাচ ঝলসায়। তবে তিনি নগরীর সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির চিচা মরাডা নিজ হাতে ফারমেন্ট করেন। তার স্ত্রী পয়েবলো ইন্ডিয়ান নামে পরিচিত এক আদিবাসী গোত্রের নারী। তাদের কন্যাসন্তানটি একা অ্যান্ডিজ ক্যাফেটি সামলায়।
ক্যাফিটিতে হামেশা লো ভলিউমে বাজে পেরুর অ্যান্ডিজ পাহাড়ের আদিবাসী সমাজে প্রচলিত বাঁশরী। কখনো ক্যাফেটিতে কোনো খদ্দের আসে না। নিরিবিলি পরিবেশে আমি লিখতে লিখতে দেখি, মেয়েটি কাউন্টারের সামনে যন্ত্রসংগীতের সুরতালে নেচে উঠছে থেকে থেকে। তার মুখখানা হিস্পানিক নারীদের মতো বেজায় কমনীয়। তবে ফিগারে, কোমরের কাছে খানিক পৃথুলা শেইপে আমেরিকার আদিবাসী নারীর হাঁটাচলার বোল্ড ভঙ্গিকে মনে করিয়ে দেয়। আমি তাকিয়ে আছি অনুভব করে, নাচ থামিয়ে সে আমার মগে ঢেলে দেয় চিচা মরাডার রিফিল। তাতে চুমুক দিয়ে মন্তব্য করি, ‘সো, ইউ লাভ ড্যান্সিং?’ সাবলীলভাবে সে জবাব দেয়, ‘ইয়াহ, আই অ্যাম আ নাইটক্লাব ড্যান্সার।’ তার ক্লাবের একটি বিজনেস কার্ডও আমার হাতে ধরিয়ে দেয়, যেখানে উইকয়েন্ডের দুটি রাতে সে কমার্শিয়ালি ড্যান্স করে।
কোনো কোনো দিন ক্যাফেতে বসে আমি নিরিখ করি, মেয়েটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ড্যান্সের ভিডিও দেখছে, দেখে দেখে অনুশীলন করছে হরেক মুদ্রার। কখনো নৃত্যভঙ্গিতে শূন্যতায় সৃষ্টি হয় রেখাচিত্র, কখনো বা ভরা কলসির জলের মতো চিত্ররেখা ছাপিয়ে ছলকে উঠে যৌবন। ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে মাথা তুলে আমি আড়চোখে তার দিকে তাকাই। কখনো অজান্তে তার গণ্ডদেশে ছড়িয়ে পড়ে গোধূলির আভা। চোখ তুলে জানতে চায়, ‘আর ইউ কিউরিয়াস আবাউট মাই ড্যান্স?’ রেসপন্সে আমি প্রশ্ন ছুড়ে দিই, ‘ডু ইউ লাইক ড্যান্সিং ইন দ্য নাইট ক্লাব?’ সে জবাব দেয়, ‘নৃত্য ভালোবাসি আমি, তবে নাইটক্লাবের পারফর্ম করতে হয় পয়সার জন্য, দে পে মি ওয়েল, রাত একটু বাড়লে শরীরে ফুটিয়ে তুলি সুপার সেক্সি পোশ্চার, তাতে টিপসের অঙ্ক বাড়ে। অ্যান্ড ইউ নো আই নিড দ্য মানি, নিড ইট ক্রিটিক্যালি।’ জানতে চাই, ‘হোয়াই ইউ নিড মানি ব্যাডলি?’ টেবিলের কাছে এসে চেয়ারে কনুই ঠেকা দিয়ে একটু ঝুঁকে সে সিরিয়াসলি জবাব দেয়, ‘নাইট ক্লাবে পাওয়া টিপসের টাকাগুলো জমাচ্ছি। ঘুরে বেড়াতে চাই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র। আমার রক্তে আছে আদিবাসী পেয়েভলো ইন্ডিয়ানদের রক্ত। তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে পুরো একটা ধারণা পেতে চাই, দেখতে চাই কোথায় তারা কোন পরিবেশে বসবাস করছে।’
বিস্মরণের বিভ্রান্তিতে আন্দাজ করি, হয়তো ঘুরে বেড়াতে গিয়ে মেয়েটি চলে এসেছে ফ্লোরিডার এ মিউজিক মাইফেলে। ফের চেষ্টা করেও তার নাম মনে করতে পারি না। বিস্মরণ অপরাধ নয়, তবে বড় অস্বস্তিকর, তাই তার সাক্ষাৎ এড়াতে বাদ্য-বাজনার পরিসর ছেড়ে চলে আসি হ্রদের পাড়ে। দুপুরের রোদে শাপলা ছড়াচ্ছে সজল আভা। পানিতে ভাসা একটি গাছের ডালে বসে আছে পাঁচটি কচ্ছপ ও একটি হাঁস। আমি এ দৃশ্যপটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। ভাবি, কচ্ছপ বা হাঁসের স্মৃতি সংক্রান্ত সচেতনতা আছে কী? তারা কি কখনো আমার মতো ভোগে বিপুল বিস্মরণে?
সময়ের আলো/আরবিএন