সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল

গাউসুর রহমান

সাহিত্য

আজ ক্যালেন্ডারের পাতায় আষাঢ়ের নবীন পদধ্বনি। জানালার ওপাশে ধূসর আকাশ আর সোঁদা মাটির ঘ্রাণে যে মহাকাব্যিক আবহ রচিত হচ্ছে, তা

2026-06-20T20:05:40+00:00
2026-06-20T20:05:40+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল
গাউসুর রহমান
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
আজ ক্যালেন্ডারের পাতায় আষাঢ়ের নবীন পদধ্বনি। জানালার ওপাশে ধূসর আকাশ আর সোঁদা মাটির ঘ্রাণে যে মহাকাব্যিক আবহ রচিত হচ্ছে, তা কেবল একটি ঋতুর আগমনি বার্তা নয়, বরং বাঙালির সহস্রাব্দের আবেগ, দর্শন এবং সাহিত্যের এক ঘনীভূত জলছবি। বাঙালির সত্তায় বর্ষা কেবল বারিবর্ষণের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যা কখনো বিরহের দহন, কখনো আধ্যাত্মিক মিলন, আবার কখনো বা উত্তর-আধুনিক বিপন্নতার প্রতীক হয়ে ধরা দিয়েছে। মেঘের এই যে নীলিমা, কদমের এই যে প্রস্ফুটনের গভীরে প্রোথিত আছে আমাদের সাহিত্যের দীর্ঘ অভিযাত্রা, যা কালিদাসের অলকাপুরী থেকে শুরু করে আজকের জলবায়ু পরিবর্তনের শঙ্কিত প্রহর পর্যন্ত বিস্তৃত। বাঙালি মননে বর্ষার যে ধ্রুপদী উন্মেষ, তার আদি উৎস খুঁজতে ফিরে যেতে হয় মহাকবি কালিদাসের ‘মেঘদূত’-এ। 

সেখানে নির্বাসিত যক্ষের যে আকুলতা, তা বর্ষাকে কেবল একটি ঋতু হিসেবে নয়, বরং ‘বিরহ’ নামক এক চিরন্তন মানবিক বেদনার বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কালিদাস যখন লেখেন, মেঘের উদয় হলে সুখী মানুষের চিত্তও অন্যরূপ ধারণ করে, আর বিরহী জনের কথা তো বলাই বাহুল্য তখন তিনি মূলত এক চিরন্তন মানবীয় সত্যের উন্মোচন করেন। এই যে ‘অন্যথাবৃত্তি’ বা মনের রূপান্তর, এটিই বর্ষার মূল নন্দনতত্ত্ব। সাহিত্যতত্ত্বের নিরিখে এখানে ‘বিপ্রলম্ভ শৃঙ্গার’ রসের এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সংস্কৃত অলংকার শাস্ত্র অনুযায়ী বর্ষা এখানে উদ্দীপন বিভাস হিসেবে কাজ করে, যা মানুষের অন্তরের সুপ্ত বাসনা ও বেদনাকে জাগিয়ে তোলে।

কে জানে, সেই প্রাচীন উজ্জয়িনী থেকে আজকের এই যান্ত্রিক ঢাকা দূরত্ব কতখানি? ভৌগোলিক ব্যবধান থাকলেও মেঘের সেই প্রাচীন গাম্ভীর্য আজও একই রকম আবেদন নিয়ে আসে। কালিদাসের এই মেঘই পরবর্তীকালে বৈষ্ণব পদাবলিতে এসে রাধা-কৃষ্ণের অভিসারের পটভূমি হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যযুগের পদকর্তারা বর্ষাকে দেখেছেন এক আধ্যাত্মিক ও ইন্দ্রিয়জ প্রেমের সন্ধিক্ষণ হিসেবে। বিদ্যাপতির সেই অবিনশ্বর পঙ্ক্তি ‘এ সখি হামারি দুখক নাহি ওর।/ এভরা ভাদর মাহ ভাদর/ শূন্য মন্দির মোর’

বর্ষার নিঃসঙ্গতাকে এক মহাজাগতিক রূপ দান করে। এখানে ‘শূন্য মন্দির’ কেবল একটি ফাঁকা ঘর নয়, বরং তা অন্তরের সেই রিক্ততার প্রতিচ্ছবি, যা কেবল প্রিয়তমের মিলনস্পর্শেই পূর্ণ হতে পারে। বর্ষার অঝোর ধারায় চণ্ডীদাস কিংবা গোবিন্দদাস যখন অভিসারের চিত্র আঁকেন, তখন কণ্টকাকীর্ণ পথে রাধার যাত্রা কেবল এক নারীর প্রিয়মিলন আকাঙ্ক্ষা থাকে না, তা হয়ে ওঠে অসীমের দিকে সসীম আত্মার ধাবমানতা। 

অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে বাংলা কবিতা যখন রবীন্দ্র-বলয়ে প্রবেশ করল, তখন বর্ষা লাভ করল তার শ্রেষ্ঠতম মহিমা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বর্ষার কবি, বৃষ্টির উপাসক। তার কাছে বর্ষা কেবল বিরহের নয়, বরং তা ‘অচেনা’কে চেনার এক মাধ্যম। রবীন্দ্র-কাব্যে বর্ষার যে বহুমাত্রিকতা, তা মূলত রোমান্টিসিজম এবং অতীন্দ্রিয়বাদের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। রবীন্দ্রনাথের বর্ষা কখনো ‘সোনার তরী’র সেই অনিশ্চিত যাত্রার রূপক, যেখানে জীবনশিল্পী তার জীবন-ফসল তুলে দিয়ে নিজেও বিলীন হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তার গানে ও কবিতায় বর্ষা কখনো রাজকীয় আড়ম্বরে আসে ‘নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে’, আবার কখনো তা শান্তিনিকেতনের প্রান্তরে আধ্যাত্মিক উপলব্ধির সুযোগ করে দেয়। রবীন্দ্র-দর্শনে বর্ষা হলো ‘সীমার মাঝে অসীমের’ মিলন। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন এক একটি সুর, যা মাটির পৃথিবীতে নেমে আসে স্বর্গীয় আশীর্বাদ হয়ে। তার ‘বর্ষামঙ্গল’ কেবল একটি উৎসব নয়, বরং তা প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় মৈত্রী চুক্তি। রবীন্দ্রনাথ বর্ষাকে দিয়েছেন এক রাজকীয় গাম্ভীর্য, আবার একই সঙ্গে তাকে করেছেন ঘরের দাওয়ায় বসে থাকা কোনো বিরহী মনের দীর্ঘশ্বাস।

রবীন্দ্র-উত্তর আধুনিক কবিদের হাতে বর্ষার এই লাবণ্যময়ী রূপটি আমূল বদলে গেল। নজরুলের কবিতায় বর্ষা যখন আসে, সে কেবল কদম ফুলের সৌরভ নিয়ে আসে না, সে নিয়ে আসে আকাশের এক অস্থির ব্যাকুলতা। আচ্ছা, বৃষ্টির শব্দের কি নিজস্ব কোনো ব্যাকরণ আছে? নজরুলের কবিতায় কান পাতলে মনে হয়, সেই ব্যাকরণটি হলো শুদ্ধ আবেগ। নজরুলের মেঘমালা কখনো বিরহী প্রিয়ার কাজল-ধোয়া চোখের মতো কোমল, আবার কখনো তা রুদ্রের প্রলয়-বিষাণের মতো ভয়ংকর।

নজরুল যখন লিখছেন ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে’, তখন সেই বৃষ্টির ধারা যেন বিরহী হৃদয়ের অবিরাম অশ্রুপাত। এখানে বর্ষা কেবল প্রাকৃতিক নয়, তা মানস-প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নজরুলের এই বর্ষা-চেতনার গহিনে এক ধরনের আধ্যাত্মিক অতৃপ্তি কাজ করে। ফরাসি দার্শনিক গ্যাস্টন ব্যাশেলার্ড বলেছিলেন, পানি হলো এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক আয়না। নজরুলের মেঘের আয়নায় আমরা দেখতে পাই এক চিরকালীন বিরহীকে, যে মেঘের আড়ালে তার আপন সত্তাকে খুঁজতে চায়। কিন্তু এই বিরহ কেবল নিভৃতচারী নয়; নজরুলের বর্ষা প্রলয়ংকরীও বটে। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় যখন তিনি কালবোশেখীর ঝড়ের আবাহন করেন, তখন সেই বজ্রবিদ্যুৎ সমাজ-সংসারের জীর্ণতাকে ভেঙে ফেলার এক রণধ্বনি হয়ে ওঠে। নজরুলের কাছে বর্ষা তাই ‘ক্রিয়েটিভ ডেসট্রাকশন’ বা সৃজনশীল ধ্বংসের প্রতীক।

অন্যদিকে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বর্ষা এলো ধূসরতা ও বিপন্নতার আড়ালে। তার ‘রূপসী বাংলা’র বর্ষা মায়াভরা, যেখানে বৃষ্টির শব্দে মিশে থাকে কোনো এক বিস্মৃত অতীতের স্মৃতি। জীবনানন্দের বর্ষা অনেকটা পরাবাস্তববাদী ছবির মতো, যেখানে জলের ধারা স্মৃতির অতল গহ্বর থেকে তুলে আনে হাড়, ঘাস আর নক্ষত্রের গন্ধ। অন্যদিকে জসীমউদ্দীনের পল্লী-বর্ষা অত্যন্ত মৃত্তিকা-সংলগ্ন। সেখানে বর্ষা মানে কৃষকের লাঙল ধরা, বর্ষা মানে গ্রামের মেঠো পথে কাদার আলপনা। জীবনানন্দ যখন লেখেন ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/ হয়তো মানুষ নয় হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে’, তখন সেই প্রত্যাবর্তনের পটভূমিতেও বর্ষার এক সজল উপস্থিতি অনুভূত হয়। শক্তি চট্টোপাধ্যায় বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতায় বর্ষা এসেছে এক বুনো ও অদম্য কামনার প্রতীক হয়ে। শক্তির কবিতায় বর্ষা যখন অবতীর্ণ হয়, তখন তা ঘরছাড়ার আহ্বান জানায় ‘যেতে পারি, কিন্তু কেন যাব?’ এই যে দোদুল্যমানতা, বৃষ্টির ঝাপটায় নিজেকে সঁপে দেওয়া বা না-দেওয়ার দ্বন্দ্ব, এটিই আধুনিক মানুষের নাগরিক নিঃসঙ্গতার সারমর্ম।

পক্ষান্তরে আল মাহমুদের চোখে বর্ষা মানে কেবল আকাশের কান্না নয়, বরং তা ‘নিসর্গের এক প্রগাঢ় মিলন’। তিনি বর্ষাকে দেখেছেন একজন চাষি এবং একজন আদিম প্রেমিকের দৃষ্টিতে। বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে যখন কদমের রেণু ঝরে, মাহমুদ সেখানে দেখেন পৃথিবীর গর্ভধারণের এক জৈবিক প্রক্রিয়া।

আল মাহমুদ বর্ষাকে দেখেন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে। ইকো-ক্রিটিসিজমের নিরিখে বিচার করলে দেখা যায়, তিনি মানুষের জৈবিক অস্তিত্বকে প্রকৃতির ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করে দিয়েছেন। তার কাছে বর্ষা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; তা স্পর্শযোগ্য, ঘ্রাণযোগ্য এক নিরেট বাস্তবতা।

বর্ষার ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয়কে সমানভাবে আলোড়িত করে। বৃষ্টির ‘রিমঝিম’ শব্দ বা মেঘের ‘গুরুগুরু’ ডাক সাহিত্যে এই যে অনুকার শব্দের ব্যবহার, তা এক অনন্য ধ্বনি-সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। সোঁদা মাটির ঘ্রাণ কেবল একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া নয়, এটি বাঙালির জিনগত স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিত্রকল্পের দিক থেকেও বর্ষা অতুলনীয়। কদমের হলুদ বর্ণ, মেঘের ঘন নীলিমা আর প্রকৃতির সতেজ সবুজ এই ত্রয়ীর মিলনে যে বর্ণচ্ছটা তৈরি হয়, তা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা নন্দলাল বসুর তুলিতে যেমন ধরা পড়েছে, তেমনি কবিদের শব্দ-তুলিতেও তা পেয়েছে অমরত্ব। সাহিত্যে বর্ষা অনেক সময় ‘শুদ্ধি’-এর প্রতীক। বৃষ্টির ধারায় সব কালিমা ধুয়ে গিয়ে প্রকৃতি যেমন নবজীবন লাভ করে, তেমনি মানুষের মনও যেন এক আধ্যাত্মিক স্নানের মধ্য দিয়ে পবিত্র হয়ে ওঠে। টি.এস. এলিয়ট তার ‘The Waste Land’ কবিতায় জলকে পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা বাঙালি কবিদের চেতনায় ভিন্নভাবে অনুরণিত হয়। তবে এলিয়টের সেই বৃষ্টির প্রতীক্ষা ছিল বন্ধ্যা জমিতে প্রাণের সঞ্চারের জন্য, আর বাঙালির ক্ষেত্রে বৃষ্টি হলো প্রাণের উচ্ছলতাকে রক্ষা করার জন্য।

কবিতায় বর্ষা কেবল ঋতু পরিবর্তনের আখ্যান নয়, এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিবর্তনের এক দর্পণ। মধ্যযুগের সেই মরমিয়া প্রেম থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের অস্তিত্ববাদী সংকট বর্ষা সর্বত্রই এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। জলবায়ু পরিবর্তন হয়তো বর্ষার সময়সূচি বদলে দিচ্ছে, কিন্তু বাঙালির আবেগ থেকে বৃষ্টিকে মুছে ফেলতে পারবে না। যতকাল বাংলা ভাষা থাকবে, যতকাল এ দেশের মাটিতে কদম ফুটবে, ততকাল বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা এক একটি কবিতা হয়ে ঝরবে। বর্ষা আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে বিরহের মাঝেও মিলনকে অনুভব করতে হয়, কীভাবে ধ্বংসের মাঝেও সৃষ্টির বীজ বপন করতে হয়।

এই আষাঢ়ে দাঁড়িয়ে একটাই প্রার্থনা জেগে ওঠে প্রকৃতি তার চিরন্তন রূপে ফিরে আসুক, আর বৃষ্টির প্রতিটি পতন বাঙালির মননকে আরও সিক্ত, আরও উর্বর করুক। কারণ, বর্ষা ছাড়া বাঙালি কেবল তৃষ্ণার্তই নয়, বরং সে সত্তাহীন। মেঘমুক্ত আকাশ যেমন রুক্ষ, বৃষ্টিহীন বাঙালির হৃদয়ও তেমনি এক মরুভূমি।

তাই বর্ষা আসুক বারবার কখনো ধ্রুপদী বিরহ হয়ে, কখনো বা আধুনিক বিপন্নতার শৈল্পিক প্রতিবাদ হয়ে। কারণ এই সজল জলছবিতেই আঁকা আছে বাঙালির জাতিসত্তার প্রকৃত মানচিত্র। চন্ডীদাসের ভাষায় বলতে গেলে, ‘এ ঘোর রজনি মেঘের ঘটা/ কেমনে আইলি বাটে’ এই প্রশ্ন যেমন প্রেমের, তেমনি এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াইয়েরও। বর্ষার এই নিরবচ্ছিন্ন জলধারা বাঙালির ঐতিহ্যের সেই শিকড়কে সজীব রাখুক, যা কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ বা যান্ত্রিকতার দহনে কখনো শুকিয়ে যাবে না।


  বিষয়:   গাউসুর রহমান  সেদিন সারাদিন বৃষ্টি পড়েছিল 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: