কী পড়ছি, কী লিখছি

সরকার মাসুদ

সাহিত্য

প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে আমার ছাত্রত্ব ঘুচেছিল উনিশশ ছিয়াশি সালের মাঝামাঝি নাগাদ, যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে এসে পড়েছিলাম ঢাকায়। ছোটবেলা

2026-08-21T20:29:52+00:00
2026-08-21T20:29:52+00:00
 
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
সাহিত্য
কী পড়ছি, কী লিখছি
সরকার মাসুদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে আমার ছাত্রত্ব ঘুচেছিল উনিশশ ছিয়াশি সালের মাঝামাঝি নাগাদ, যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে এসে পড়েছিলাম ঢাকায়। ছোটবেলা থেকেই আমি বইয়ের পোকা। তার ওপর ক্লাস নাইনে পড়ার সময় মাথায় এসে চাপে কবিতার ভূত। 

কলেজ পর্যায়ে এবং বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরগুলোতে আমার সামনে খুলে যায় সাহিত্য-সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত। ইউনিভার্সিটির বিশাল লাইব্রেরি ও রাজশাহী নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানগুলো প্রশ্নতাড়িত আমাকে বাধ্য করে পড়ুয়ার খাতায় নাম লেখাতে। অতএব ছাত্রত্ব ঘুচবে কী করে? যে মানুষ পড়তে ভালোবাসে, পড়াতে ভালোবাসে, সর্বোপরি উচ্চাকাক্সক্ষা পোষণ করে সাহিত্যিক হিসেবে তার ছাত্র-দশা দূর হয় না কোনো কালে।

এখন ভাবি, লেখক হওয়াটাই ছিল আমার নিয়তি। তা না হলে মোটা বেতনের বেসরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে কলেজ শিক্ষকের আধা গরিব জীবন বেছে নিয়েছিলাম কেন? প্রায় সারা জীবন অধ্যাপনা করেছি। খুব বেশি টাকা উপার্জন করতে পারিনি বটে; পড়ার, ভাবার ও লেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়েছি। পাঁচ, সাত, দশ, পনেরো দিনের ছুটিগুলোতে এই যে এত ঘুরে বেড়ালাম; দেখা হলো এত ভূদৃশ্য— বনভূমি, জলাভূমি; পড়া হলো মানুষ নামের বিচিত্র ‘বই’, সে তো এ জন্যই যে আমি সর্বান্তঃকরণে চেয়েছি সাহিত্যিক হতে। কতটা হতে পেরেছি তা ভালো করে বলতে পারবেন আমার লেখার অভিনিবেশী পাঠকরা।

খাবার বা পোশাকের বেলায় যেমন, তেমনি পড়ার বেলায়ও আমি বৈচিত্র্যপিয়াসী। একই সময়পর্বের মধ্যে আমি সাধারণত ৩-৪ ধরনের বই পড়ি। মনোযোগ বিঘ্নিত হয় না, অভ্যাস হয়ে গেছে।‌ এই যেমন এখন পড়ছি চিত্রকলা ও সিনেমা নিয়ে দুটি বই, সত্তরের প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কবি জরি গ্রাহামের কবিতা, বাংলাদেশের নব্বই দশকের অগ্রগণ্য কবি অনিন্দ্য জসীমের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘সপুষ্পক নীরবতা’ এবং নব্বই-পরবর্তী সময়ের কবি শুভ্র সরকারের কাব্য ‘রোদের অলিভিয়া’। 

এডওয়র্ড সাঈদের ‘ওরিয়েন্টালিজম’ কিনেছিলাম ৭-৮ বছর আগে। অর্ধেকটা পড়েছিলাম সে সময়ে। বাকি অর্ধেক অংশ এখন পড়ছি। কয়েক দিন আগেই আবার পড়লাম শরীফ শাহরিয়ারের কবিতা। আশির প্রজন্মের এ গুরুত্বপূর্ণ লেখক এখনও অনেকটা আড়ালে পড়ে আছেন। ৩-৪টি লিটল ম্যাগাজিনের বাইরে অন্য কোথাও তিনি কবিতা ছাপতে দিচ্ছেন না।


শরীফের কবিতা বিষয় ও ভঙ্গি দুদিক থেকেই স্বতন্ত্র। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কবিতার গড়পড়তা মেজাজের সঙ্গে তা মেলে না। অনিন্দ্য জসীমের কবিতা পাহাড়-প্রকৃতি-হাওড় ও মগ্নচৈতন্যের সরল সৌন্দর্য নিয়ে বিশিষ্ট। অন্যদিকে শুভ্র সরকারের ভালো কবিতাগুলো ভিন্ন স্বাদের ব্যঞ্জনা বহন করে। তার কাব্যে চিত্রকল্পের নতুনতা আছে। আবার বাক্যের অসম্পূর্ণতাও আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না। আশা রাখি এটি তার মুদ্রাদোষে পরিণত হবে না।

কবিতা তৈরি হয়ে লেখার জিনিস নয়। তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। একটা বয়সের পরে মন কবিতামগ্ন হয় অনিয়মিতভাবে। চিন্তাপ্রধান গদ্য রচনার বেলায় এ সমস্যা নেই। অনেক কিছু নিয়ে লেখা যায়; আমি লিখিও। গত ১৩-১৪ বছর ধরে যা লিখছি তার আশি শতাংশই গদ্য। এর ভেতর কথাসাহিত্যও আছে, ছোটদের জন্য রচিত গল্প-উপন্যাসও এর আওতায় পড়বে। 

সবশেষ কবিতাটা লিখেছি আজ সকালে। ৪-৫ মাস পর হঠাৎ কবিতার জোয়ার অনুভব করলাম। গত দশ দিনে ১৪টি কবিতা লিখতে পেরেছি! বিগত ছয় মাসের মধ্যে ছোটগল্প কিন্তু লেখা হয়নি একটিও। প্রবন্ধ লিখেছি পাঁচটা। রচনাগুলোর শিরোনাম— ১. ইংরেজি উপন্যাস : সেকাল, একাল; ২. আলমগীর কবিরের চলচ্চিত্র : দৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য; ৩. কবিতা, জনপ্রিয়তা, আধুনিক কবিতা; ৪. ইতালির রেঁনেসা, বাঙালির রেঁনেসা, কয়েকটি প্রশ্ন; ৫. বহুমাত্রিক নিজত্ব : অসীম, কামরুল ও অনিন্দ্যের কবিতা। এ মুহূর্তে দুটি গদ্য রচনার জন্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। একটি লেখার শিরোনাম হবে ‘জীবনদর্শন, ষাঁড়ের লড়াই ও হেমিঙওয়ে’। অপরটির নাম দেব ‘কথাসাহিত্য : জনপ্রিয়তার মধু ও বিষ’।

সময়ের আলো/এসএকে



  বিষয়:   পড়ছি  লিখছি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: