বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি ঝরে
জাকির সেতু
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, ওই দূরের মেঘ,
দমকা হাওয়ায় দুলছে গাছ, বাড়ছে বৃষ্টির বেগ।
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, কদম ফুলের গন্ধ,
বৃষ্টি এসে খুকি শেখে কবিতারই ছন্দ।
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, খুকি ডাকে- ‘আয়’,
বৃষ্টিভেজা উঠোনজুড়ে পুতুল বিয়ে হয়।
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, আকাশজুড়ে সারি,
বকগুলো সব ফিরে চলে আপন আপন বাড়ি।
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, ‘আয় রে তোরা সখী’,
জানালার ধারে বসে বসে বৃষ্টিপানে থাকি।
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে, মধুর লাগে ছন্দ,
সারাদিনই বৃষ্টি ঝরে, বাইরে যাওয়া বন্ধ।
সবুজ গাঁয়ে সোনার ঝলক
এম এ জিন্নাহ
আমার গাঁয়ে সবুজ চাদর, চারদিক ঘেরা,
রূপ-অপরূপ সোনার ঝলক- সবার চেয়ে সেরা।
ফুলের বনে সেজে থাকে, হাসে মিটিমিটি,
ভোরের হাওয়ায় মেঘের ভেলায় ভাসে শীতল চিঠি।
হাত বাড়ালেই ফুলের বাহার, থাকে হাতের কাছে,
দূরের আকাশ নেমে আসে নারিকেলের গাছে।
তালপাতাগুলো দোলে যখন হিমেল হাওয়ার তালে,
চোখজুড়ানো সেই দৃশ্য কি ভোলা যায় কালে?
চালতা গাছের ডালে ডালে বকের আনাগোনা,
পাখপাখালির কিচিরমিচির- সবই যেন চেনা।
হাঁসের সারি মাঠে ঘোরে, গরু-ছাগল চরে,
বিকেল হলে জমজমাট হাট বসে পথের ধারে।
গাঁয়ের কোলে প্রেম-মমতা, মায়ের ভালোবাসা,
সেথায় খুঁজি সুখের পরশ, মেটে মনের আশা।
মধুর ঘ্রাণে ঘুম ভাঙে, জাগে প্রাণের হাসি,
মস্ত বিলে সোনার ধানে হাসে চাষির ফসলভাসি।
সবুজ গাঁয়ের এই তো ছবি, এই তো আমার দেশ,
মাটির গন্ধ, মানুষের মায়া- সবই বড় বেশ।
যত দূরেই যাই না কেন, মনে পড়ে গাঁ,
এই মাটিতেই স্বপ্ন বুনি, এই মাটিতেই প্রাণ।
তালের গন্ধ
মো. আশতাব হোসেন
যাবে বর্ষা আসবে শরৎ
গাছে পাকবে তাল,
তালের গন্ধে শেয়াল পণ্ডিত
হয়ে যাবে মাতাল।
ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েস
তৈরি হবে গায়ে,
‘আরও একটি খাও বাবা’
বায়না ধরবে মায়ে।
মায়ের আবদার সন্তান কি আর
দিতে পারে ফেলে,
এমন করেই মায়ের আদর
পায় যে মেয়ে-ছেলে।
এমন দেশটি প্রিয় ভূমি
মোদের বাংলাদেশ,
ষড়ঋতুর নানা আয়োজনে
আনন্দ দেয় অশেষ।
বৃষ্টিভেজা দুপুর
শারমিন নাহার ঝর্ণা
মেঘ করেছে আকাশজুড়ে, টাপুর-টুপুর বৃষ্টি,
কী অপরূপ জলের ধারা- মহান রবের সৃষ্টি।
আঁকাবাঁকা পথটি ধরে ছোট্ট গাঁয়ের পানে,
বৃষ্টি হলে মন ছুটে যায় স্নেহ-মায়ার টানে।
মনে পড়ে ছোটবেলার কাগজ নৌকার স্মৃতি,
বুকের ভেতর জেগে ওঠে সখীদের সেই প্রীতি।
বৃষ্টিভেজা মধুর দুপুর ভীষণ মনে পড়ে,
বৃষ্টি ভিজে ঘরে ফিরলে মা যে বকতেন তরে।
বৃষ্টির দিনে দাদু বসে মজার কিচ্ছা বলতেন,
দাদি বসে নকশিকাঁথায় রঙিন সুতো তুলতেন।
দাদুর কথায় হাসত মন, দাদির সেলাই ঘিরে,
সেই দিনগুলো আজও যেন বৃষ্টির সাথে ফিরে।
আজও যখন বৃষ্টি নামে, মনটা উদাস হয়,
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো আপন মনে কয়।
কাগজ নৌকা, সখীর হাসি- ভেসে আসে মনে,
বৃষ্টিভেজা দুপুর যেন ডাকছে আপন মনে।
তালের পিঠা
আশরাফ মাহতাব
খোকা খাবে তালের পিঠা,
গাছে উঠবে কে?
ইয়া বড় তালগাছটি
মেঘ ছুঁয়েছে যে!
গিরগিটিকে পেয়ে খোকা
গাছে দিল তুলে,
যেই না তালে মারল কামড়,
দাঁত গেল যে খুলে!
খোকা ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস,
বসে থাকে চুপ,
খোকার শ্বাসের বাতাস লেগে
তাল পড়ল টুপ!
খোকা তখন হাসতে হাসতে
তালটি নিল হাতে
মা করল রান্না-বান্না
পিঠা দিল পাতে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে